২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পঞ্চগড় জেলার চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চরম ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। এর মধ্যে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি এবং একটিতে মাত্র একজন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হয়েছে। শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বোদা উপজেলার দুটি উচ্চ বিদ্যালয় এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) ফল প্রকাশের পর জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এই হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, সে অকৃতকার্য হয়েছে। একই উপজেলার বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।
সবচেয়ে বড় বিপর্যয় দেখা গেছে তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া দাখিল মাদ্রাসায়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও পাসের খাতা খুলতে পারেনি কেউ; অর্থাৎ ১৮ জনই ফেল করেছে। এছাড়া একই উপজেলার বোয়ালমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও মাত্র একজন উত্তীর্ণ হয়েছে।
বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বোদা উপজেলার যে দুটি প্রতিষ্ঠানের ফল শূন্য, সেগুলো নন-এমপিওভুক্ত। বলরামহাট মডেল বালিকা বিদ্যালয় থেকে একজন এবং সর্দারপাড়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
তেঁতুলিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শওকত আলী বলেন, উপজেলার অধিকাংশ স্কুল ভালো ফলাফল করলেও দুটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক। কেন এমন বিপর্যয় ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হবে এবং বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি। তবে বোয়ালমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম তাঁর প্রতিষ্ঠানে মাত্র একজন পাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরকারি ও বেসরকারি বিপুল বিনিয়োগের পরও শতভাগ ফেল করা এবং নামমাত্র পাসের এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা নিয়মিত পাঠদান ও তদারকির অভাবকেই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সময়ের আলো/আতা