দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিভাগের মধ্যে ভালো ফল করেছে রংপুর মহানগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরের তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রংপুর ক্যাডেট কলেজ এবং বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে এবারও শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাস করেছে ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। ৫৩০ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২৯ জন। পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। ৫৬৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২২ জন।
সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাস করেছে ৯৮ দশমিক ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। ২৬৪ জনের মধ্যে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৭৭ জন। রংপুর জেলা স্কুল থেকে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২১৭ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫০ জন। মিলিনিয়াম স্টারস থেকে ৯৭ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। ১০১ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭২ জন।
এছাড়া, বর্ডারগার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৯৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। ১৩৪ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪ জন। লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাস করেছে ৮৯ দশমিক ০৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। ২৫২ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ জন। কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৮৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২৪৪ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮০ জন।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন জানান, এবার রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ২ হাজার ৮১৪টি স্কুলের ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। ২৪টি স্কুল থেকে শতভাগ পাস এবং ১৮টি স্কুল থেকে শতভাগ ফেল করেছে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ভিড় জমান বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিন হাফিজ জানান, জিপিএ-৫ পাওয়াটা তার কাছে বিশেষ অনুভূতির। কারণ, এবারের পরিস্থিতি সহজ ছিল না।
একই স্কুলের শিক্ষার্থী তাওহিদ মোস্তার তাজিন জানান, কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কঠোর পরিশ্রমের ফলেই তারা ভালো ফল করতে পেরেছেন।
রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখার উপাধ্যক্ষ আব্দুল মোস্তালিব বলেন, ‘অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা মেনে চলার কারণেই এই ফল সম্ভব হয়েছে।’ নির্বাচনি পরীক্ষার পর পরীক্ষার ৫ দিন আগে পর্যন্ত মডেল টেস্ট নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাস করেছে ৯৮ দশমিক ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। ২৬৪ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৭ জন। রংপুর জেলা স্কুলে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২১৭ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫০ জন। মিলিনিয়াম স্টারস থেকে ৯৭ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। ১০১ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭২ জন।
রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফেরদৌসী আশরাফী জানান, গতবারের তুলনায় এবার তাদের ফল ভালো হয়েছে। অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার পর প্রি-টেস্টের আগে বাড়তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মধ্যে ধরে রাখাই এই সাফল্যের কারণ বলে তিনি জানান।
সময়ের আলো/মহু