ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্যমান বিএইচএফ কমিউনিকেশন সিস্টেমকে ইউএইচএফে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এ জন্য আহ্বান করা ৭ কোটি ২০ লাখ টাকার একটি আন্তর্জাতিক দরপত্র ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
টেন্ডারে অংশ নিতে ইচ্ছুক সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দরপত্র প্রকাশের মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে প্রি-বিড সভার আয়োজন করা হয়েছে। এত অল্প সময়ে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দরপত্রের নথি পর্যালোচনা, প্রয়োজনীয় প্রশ্ন প্রস্তুত এবং সভায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন। একই সঙ্গে কারিগরি শর্তে নির্দিষ্ট একটি ব্র্যান্ডের স্বত্বাধিকারী প্রযুক্তি যুক্ত করায় অন্য ব্র্যান্ডের অংশগ্রহণও কঠিন করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
জানা গেছে, জি/সিই-এসসিএস/২৫-২৬/০০৭ প্যাকেজের আন্তর্জাতিক দরপত্রটি গত ১৫ জুলাই সকাল ৯টায় প্রকাশ করা হয়। ওই দিনই দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে প্রি-বিড সভার সময় নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ দরপত্র প্রকাশের মাত্র পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে সম্ভাব্য দরদাতাদের নিয়ে সভাটি আয়োজন করা হয়। এত অল্প সময়ে সভা আয়োজনের ফলে দরপত্র প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে দরপত্র সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড না করার অভিযোগও রয়েছে।
ডিপিডিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং দরপত্র জামানত ১৫ লাখ টাকা। ডিপিডিসির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নযোগ্য এ প্যাকেজটি বার্ষিক প্রকিউরমেন্ট প্ল্যানের আওতায় নেওয়া হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩০ জুলাই। প্রথম দফায় ২ আগস্ট দরপত্র খোলার কথা থাকলেও পরবর্তী সংশোধনের মাধ্যমে তা ৬ আগস্ট করা হয়। তবে কতটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে এবং কোন প্রতিষ্ঠানগুলো কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে, তা জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে দরপত্রের কারিগরি শর্ত নিয়ে। নথি অনুযায়ী সাধারণ আন্তর্জাতিক ডিএমআর (ডিজিটাল মোবাইল রেডিও) মানের পাশাপাশি মটোরোলার স্বত্বাধিকারী ‘ক্যাপাসিটি প্লাস’, ‘ক্যাপাসিটি ম্যাক্স’ ও ‘কানেক্ট প্লাস’ প্রযুক্তি শর্তে যুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আইকম, ক্যালটা, হাইটেরা, তাইট বা কেনউডের মতো অন্যান্য ব্র্যান্ড সাধারণ ডিএমআর প্রযুক্তিতে কাজ করলেও মটোরোলার এসব নির্দিষ্ট প্রটোকলের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে উন্মুক্ত দরপত্র হলেও প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া বেইস রেডিওর ক্ষেত্রে ‘ওয়াই-ফাই সাপোর্টেড’ সুবিধা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার এ প্রকল্পে ওয়াই-ফাই সুবিধাটি কতটা প্রয়োজনীয়, নাকি নির্দিষ্ট মডেলকে সুবিধা দিতেই এ শর্ত- তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি ক্রয় আইন পিপিএ-২০০৬ ও পিপিআর-২০০৮ অনুযায়ী দরপত্রের শর্ত প্রতিযোগিতামূলক, প্রয়োজনভিত্তিক ও উন্মুক্ত হওয়া উচিত।
জ্বালানি ও ক্রয় বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, প্রকল্পের কার্যপরিধিতে ওয়াই-ফাই বা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা পুনঃযাচাই করা দরকার। দরপত্রের স্পেসিফিকেশন ও সময়সূচি বিশ্লেষণ করলে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকে সুবিধা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে পর্যালোচনা করা উচিত।
অন্যদিকে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (আইসিটি অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) মো. রবিউল হাসান বলেন, ইউএইচএফ রেডিও ডিভাইসের টেন্ডারটি এসসিএডিএ বিভাগ পরিচালনা করছে এবং নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ডকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে দরপত্র প্রকাশের দিনই প্রি-টেন্ডার সভা হয়েছিল কি না সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
ডিপিডিসিতে গত পাঁচ মাস ধরে স্থায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক নেই। ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুন নাহারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি