প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের চলাচলের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় রাস্তা পার হতে গিয়ে এক পথচারীকে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সেখানে উপস্থিত অন্য পথচারীরাও।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির দুই পাশেই পুলিশ অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাশের সড়কে রিকশা, গাড়ি ও মোটরসাইকেল থামিয়ে রাখা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, কিছুক্ষণ পর সিইসি কার্যালয় থেকে বের হবেন। তবে তখনও সিইসির গাড়ি নির্বাচন ভবনের ভেতরেই ছিল।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর এক মোটরসাইকেল আরোহী ইউটার্ন নিয়ে পর্যটন ভবনের দিকে যেতে চাইলে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে আটকে দেন। ওই ব্যক্তি তার জরুরি কাজের কথা জানালে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আগারগাঁওয়ে দায়িত্বে থাকা ডিএমপির পুলিশ, ইসির পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলেন।
ওই ব্যক্তির অভিযোগ, পুলিশ সদস্যরা তাকে নানা প্রশ্ন করেন এবং বলেন,‘আপনি কী করেন? কোথায় চাকরি করেন? এত জরুরি কাজ থাকলে আগে বাসা থেকে বের হননি কেন? এখন সিইসি যাবেন, রাস্তা ব্লক— সবাই অপেক্ষা করতে পারলে আপনার এত সমস্যা কেন? আপনি কি সিইসির চেয়ে বড় কিছু হয়ে গেছেন?’
এ সময় তাকে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন পথচারীও রাস্তা বন্ধ করে রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী যেখানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে একই সড়কে চলাচল করেন, সেখানে সিইসির জন্য কেন দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ রাখতে হবে।
এর মধ্যে সিইসির গাড়ি নির্বাচন ভবন থেকে বের হয়ে চলে যায়। পরে ওই মোটরসাইকেল আরোহীও চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে সেখানে থাকা পুলিশের আরেক কর্মকর্তা তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তিনি নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা ও প্রটোকল কর্মকর্তা উপসচিব সহিদ আব্দুস ছালামের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন।
অভিযোগ শুনে সহিদ আব্দুস ছালাম বলেন, ‘আমি এখান থেকে সবকিছু সিসি ক্যামেরায় দেখেছি। আপনি জোর করে যেতে চাইছিলেন। এ জন্যই এই ঝামেলা হয়েছে। এখানে এর আগেও দুই দিন সমস্যা হয়েছিল। এ জন্য ওদের (পুলিশ ও আনসার) ওইভাবেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। আমরা যেভাবে বলব, ওরা সেভাবেই কাজ করবে। একটু অপেক্ষা করে গেলে আপনার কী হতো?’
সিইসির জন্য রাস্তা বন্ধ করে রাখা কতটা যুক্তিসংগত— এমন প্রশ্নের জবাবে সহিদ আব্দুস ছালাম বলেন, ‘আপনি যদি এ প্রশ্ন তোলেন, তা হলে তো কিছু বলার নেই।’ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের নাম-পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান।
ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি বলেন, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং তার অফিস শুরু হয় বিকাল ৪টায়। ঘটনার সময় প্রায় ৪টা ২০ মিনিট হওয়ায় তিনি এমনিতেই ২০ মিনিট দেরিতে ছিলেন। তার ভাষ্য, ‘এসে দেখি রাস্তা আটকে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। আর সিইসির গাড়ি তখনও ভবনের ভেতরে। তাই আমি ইউটার্ন নিয়ে বের হয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাকে আটকে দেয় এবং খারাপ আচরণ করে।’
তিনি বলেন, ‘সিইসির নিজস্ব প্রটোকল আছে। তাকে প্রটোকল দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এর জন্য এত সময় রাস্তা ব্লক করে রাখার কোনো মানে হয় না। এটা নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা ও প্রটোকল কর্মকর্তার ব্যর্থতা। ঘটনার সব ফুটেজ তার কাছে থাকার পরও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।’
এ বিষয়ে নিরাপত্তা ও প্রটোকল কর্মকর্তা সহিদ আব্দুস ছালামের বক্তব্য অনুযায়ী, তার নির্দেশনাতেই পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে সিইসির চলাচলের জন্য কতক্ষণ সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং এ ধরনের নির্দেশনার সুনির্দিষ্ট কারণ কী— তা তিনি জানাননি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি