ইরানের হামলার আশঙ্কায় ট্রাম্পের গোপন বিমানবদল, ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের হামলার আশঙ্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন সাংবাদিক।

2026-08-12T11:35:11+00:00
2026-08-12T11:35:11+00:00
 
  বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬,
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানের হামলার আশঙ্কায় ট্রাম্পের গোপন বিমানবদল, ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের হামলার আশঙ্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন সাংবাদিক। ট্রাম্পকে সরিয়ে নেওয়ার পর সাংবাদিক ও কর্মীদের বহনকারী বিমানটি তুরস্ক থেকে উড্ডয়ন করেছিল বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই তুরস্কে অবস্থানের সময় ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের বিমানের একটি সরবরাহ কনটেইনারের মাধ্যমে গোপনে বের করে পাশের একটি ছোট মার্কিন সামরিক বিমানে তোলা হয়। এরপর সাংবাদিক ও কর্মীদের বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান তুরস্ক থেকে যাত্রা করে।

আলাদা অংশে থাকা প্রায় এক ডজন সাংবাদিক ট্রাম্প বিমানে নেই— এ বিষয়টি না জেনেই বিমানটিতে করে তুরস্ক ছাড়েন। তাদের ধারণা ছিল, ট্রাম্পও একই বিমানে আছেন।

ঘটনাটি নিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, হোয়াইট হাউস তাদের কোনো তথ্য না দিয়ে কার্যত ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তিকর লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টকে এক হোয়াইট হাউস সাংবাদিক বলেন, প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করা সাংবাদিকদের কাজ নয়। সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ঝুঁকি নিতে পারেন, কিন্তু প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য নয়।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ ছিল। সে কারণেই নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এই গোপন পরিকল্পনা করেন।

ট্রাম্প তুরস্কে পৌঁছানোর পর ক্যামেরা ও ফটোসাংবাদিকদের সামনেই এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। পরে তিনি দ্রুত বিমান থেকে নেমে একটি সরবরাহ কনটেইনারের ভেতর দিয়ে পাশের ছোট সামরিক বিমানে চলে যান বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এদিকে ট্রাম্পকে বহনকারী বিমান থেকে সাংবাদিকদের জন্য অস্বাভাবিক নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিমানে থাকা সাংবাদিকদের পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উড্ডয়নের সময় জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে সিক্রেট সার্ভিস নির্দেশ দিয়েছিল। যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়া এমন নির্দেশনা সাধারণত দেওয়া হয় না।

তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে যাওয়ার সময় ট্রাম্প কাতারের উপহার দেওয়া একটি বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। বিমানটি প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য সংস্কার করা হলেও এতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা ছিল না বলে জানা গেছে। ফলে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানকে নিরাপত্তার প্রয়োজনে কাজে লাগানো হয়।

তখন ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, কাতারের দেওয়া বিমানটি যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরে যুক্তরাজ্যে যাত্রাবিরতির সময় তিনি আবার ওই বিমানে উঠে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হন।

সাংবাদিকদের বিমানের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার কারণ জানতে চাইলে ট্রাম্প সে সময় বলেছিলেন, তাদের ‘বিপজ্জনক ফ্লাইটে’ থাকতে হতে পারে। এমনকি সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি গেলে তোমরাও যাবে।’

গোপনে বিমান বদলের অভিযোগ নিয়ে হোয়াইট হাউস সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চেউং এক বিবৃতিতে বলেন, আমেরিকার অনেক শত্রু প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে রয়েছে এবং এসব হুমকি মোকাবিলায় সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এর আগে ২০০০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ভারত থেকে পাকিস্তান যাওয়ার সময় শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্টের বিমান বদল করেছিলেন। তখন সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের বহনকারী একটি ডিকয় বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল।

২০২৩ সালে ইউক্রেন সফরের সময় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের যাত্রাও কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হয়েছিল। তবে ওই সফরে একজন সাংবাদিক ও একজন ফটোসাংবাদিক তাঁর সঙ্গে ছিলেন।


সময়ের আলো/ কেএইচ


  বিষয়:   সময়ের আলো  ইরান  যুক্তরাষ্ট্র  ইসরায়েল  যুদ্ধ  হরমুজ প্রণালী 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: