ফোরদো পরমাণু স্থাপনা অনেকবার ‘রেকি’ করার দাবি সাবেক মোসাদ প্রধানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের ফোরদো পরমাণু স্থাপনা সম্পর্কে ধারণা নিতে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদস্যরা সেখানে ‘অনেকবার ঘুরেছে’ বলে দাবি করেছেন সংস্থাটির সাবেক

2026-08-12T14:49:03+00:00
2026-08-12T14:49:19+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ফোরদো পরমাণু স্থাপনা অনেকবার ‘রেকি’ করার দাবি সাবেক মোসাদ প্রধানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৯ পিএম  আপডেট: ১২.০৮.২০২৬ ২:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের ফোরদো পরমাণু স্থাপনা সম্পর্কে ধারণা নিতে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদস্যরা সেখানে ‘অনেকবার ঘুরেছে’ বলে দাবি করেছেন সংস্থাটির সাবেক প্রধান ইয়োসি কোহেন। গতকাল মঙ্গলবার গ্যালিলি সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে কোহেন বলেন, ফোরদোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ছিল তার ‘সব স্বপ্ন পূরণের’ মতো।

তবে মোসাদের সদস্যরা সরাসরি স্থাপনাটির ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন, নাকি দূর থেকে কোনো ধরনের নজরদারি বা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এর তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন— তা স্পষ্ট করেননি কোহেন।

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে কোহেন বলেন, ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থাকলেই তা পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য যথেষ্ট নয়। তাঁর ভাষায়, ‘৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো বোমা থেকে অনেক দূরে।’

পাহাড়ের নিচে ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় অবস্থিত ফোরদো পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছিল। ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা তখন দাবি করেছিল, হামলায় স্থাপনাটির কয়েকটি অংশে সীমিত ক্ষতি হয়েছে।

সংস্থাটির উপপ্রধান ও মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি বলেছিলেন, হামলার আগেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরঞ্জাম ও উপকরণ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ফলে স্থাপনাটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও নেই।

তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছে পাহাড়ের নিচে থাকা ফোরদো স্থাপনায় ধস নামানোর সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছে জেরুজালেম পোস্ট। মার্চে প্রকাশিত প্রাথমিক মূল্যায়নে স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলেও ধারণা করা হয়েছিল।

তবে ফোরদোর অবস্থান ও নির্মাণ কাঠামোর কারণে হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিশ্চিত হতে সময় লাগতে পারে। ইসরায়েলের কয়েকজন কর্মকর্তা স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মনে করলেও অন্যরা নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার কথা বলেছেন।

ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার কর্মকর্তা কামালভান্দির দাবি, নাতানজ পরমাণু স্থাপনায় মূলত ভূগর্ভের ওপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থাপনার অধিকাংশ অংশ মাটির নিচে থাকায় ভেতরে সামান্য তেজস্ক্রিয়তা ছড়ালেও তা বাইরে ছড়িয়ে পড়েনি বলে জানান তিনি।

ইসফাহানের পরমাণু স্থাপনাতেও সামান্য ক্ষতি হয়েছে বলে জানান কামালভান্দি। হামলায় কোনো পরমাণু স্থাপনায় প্রাণহানি ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

যেসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো আরও উন্নতভাবে পুনর্নির্মাণ করা হবে বলেও জানান ইরানের এই কর্মকর্তা।

এর আগে ২০২৫ সালের যুদ্ধে নাতানজ ও ইসফাহানে ইসরায়েলি হামলার পর অনেক বিশ্লেষক ধারণা করেছিলেন, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ছয় মাস থেকে দুই বছর বা তারও বেশি সময় পিছিয়ে যেতে পারে।


সময়ের আলো/কেএইচ
  বিষয়:   সময়ের আলো  ইসরায়েল  ইরান 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: