বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, আল্লামা দেলওয়ার হোসেন সাঈদী (রহ) ছিলেন কোরআনের একজন জনপ্রিয় দাঈ। তার কণ্ঠে কোরআনের তাফসির শুনে দেশের অসংখ্য মানুষ দ্বীনের পথে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
মামুনুল হক লেখেন, ১৪ আগস্ট, আজ থেকে তিন বছর আগে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (রহ) ইন্তেকাল করেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে মাওলানা সাঈদী (রহ)-এর জীবন, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচারিক প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ফ্যাসিবাদী জুলুমের এক নির্মম দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আরও লেখেন, ২০১৩ সালে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু মানুষ নিহত হন। অসংখ্য পরিবার তাদের প্রিয়জন হারায়। রক্তাক্ত সেই অধ্যায় আজও বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতিতে গভীরভাবে অম্লান। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন মাওলানা সাঈদী (রহ) ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালের পরও তাকে ঘিরে জুলুমের সেই অধ্যায় যেন শেষ হয়নি। ঢাকায় তার জানাজার আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি তার অসিয়তকৃত স্থানে দাফনের আকাঙ্ক্ষাও বাস্তবায়িত হতে দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত পিরোজপুরের সাঈদ খালীতে তাকে দাফন করা হয়। একজন আলেমের জীবন ও মৃত্যুর পরও তার মর্যাদা ও শেষ ইচ্ছার প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে, তা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক অধ্যায়।
তিনি লেখেন, মাওলানা সাঈদী (রহ) ছিলেন কুরআনের একজন জনপ্রিয় দাঈ। তার কণ্ঠে কুরআনের তাফসির শুনে দেশের অসংখ্য মানুষ দ্বীনের পথে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তার ইন্তেকালে আমরা একজন আলেম ও দাঈকে হারিয়েছি; কিন্তু তার দাওয়াত ও অবদান মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে, ইনশাআল্লাহ। জুলুম কখনো স্থায়ী হয় না। ক্ষমতার দম্ভ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দিয়ে সত্যকে চিরদিন আড়াল করে রাখা যায় না। ইতিহাস একদিন প্রত্যেক জুলুমের হিসাব নেবে।
মাওলানা মামুনুল হক লেখেন, মাওলানা সাঈদী (রহ)-এর ওপর সংঘটিত জুলুম এবং তার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে নিহত মানুষদের আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে শহিদের মর্যাদা দান করুন এবং মাওলানা সাঈদী (রহ)-কে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আল্লাহুম্মাগফির লাহু ওয়ারহামহু।
সময়ের আলো/আআ