লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ নওগাঁবাসী, সেচের অভাবে আমন জমি ফেটে চৌচির

নওগাঁ প্রতিনিধি

সারাদেশ

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ নওগাঁবাসী। শহরের তুলনায় গ্রামে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেশি। ২৪ ঘণ্টায় শহরের ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা এবং গ্রামে ১০ থেকে

2026-08-17T14:29:28+00:00
2026-08-17T14:29:28+00:00
 
  সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬,
২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ নওগাঁবাসী, সেচের অভাবে আমন জমি ফেটে চৌচির
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৯ পিএম 
সেচের অভাবে আমন জমি ফেটে চৌচির। ছবি : সময়ের আলো
লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ নওগাঁবাসী। শহরের তুলনায় গ্রামে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেশি। ২৪ ঘণ্টায় শহরের ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা এবং গ্রামে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরম ও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।

বিদ্যুৎ না থাকায় বিশেষ করে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমেছে। এছাড়া গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরশীল আমন মৌসুমে জমিতে পানি সেচ দিনে না পারায় জমি ফেটে চৌচির অবস্থা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁয় পিক ও অফ-পিক আওয়ার মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।


শস্যভাণ্ডার খ্যাত উত্তরের কৃষি প্রধান জেলা নওগাঁ। জেলার বিভিন্ন মাঠে মাঠে এখন আমন মৌসুম চলছে। আবহাওয়া মেঘাচ্ছন্ন হলেও বৃষ্টি না হওয়ায় চাষাবাদের জন্য গভীর ও অগভীর নলকূপের ‍ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে সময়মতো জমিতে পানি সেচ সম্ভব হচ্ছে। জমিতে পানি সেচ দিতে না পারায় অনেক মাঠে আমন ধানের জমি ফেটে যাচ্ছে।

বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল কারখানা(ওয়াকসপ) থেকে উৎপাদন কমেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকদের বেকার সময় বসে থাকতে হচ্ছে। আবার ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় চার্জ দিতে না পারায় তাদের আয়েও ভাটা পড়েছে।

সদর উপজেলা চকজাফরাবাদ গ্রামের কৃষক রবিউল বলেন, আবহাওয়া মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টি হচ্ছে না। বৃষ্টির অভাবে আমন রোপনে বিলম্ব হচ্ছে। আবার যেটুকু রোপণ করা হয়েছে পানি সংকটে জমি ফেটে চৌচির অবস্থা। বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ে গভীর নলকূপ ঠিকমতো চালু না থাকায় পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

চকআতিতা গ্রামের অটোরিকশা চালক ইউনুছ আলী বলেন, লোডশেডিং এর কারণে অটোরিকশায় ঠিকমতো চার্জ দিতে পারছি না। যেটুকু চার্জ হচ্ছে সকালে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা চালানো পর চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে কখনো ঠেলে নিয়ে যেতে হচ্ছে আবার কারো গাড়ির সঙ্গে বেঁধে টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে। দিতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা আয় হতো। লোডশেডিংয়ে আয়েও টান পড়েছে।

আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালি গ্রামের আলামিন বলেন, বেশকিছু দিন থেকে লোডশেডিং চলছে। দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তবে দুইদিন থেকে ১১ থেকে ১২ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ থাকছে। প্রচণ্ড গরম জনজীবন অতিষ্ঠ। বিদ্যুৎ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না।

নওগাঁ বিসিক শিল্প নগরীর কৃষি যন্ত্রাংশ উৎপাদন কারখানার মালিক আব্দুল বারিক বলেন, লোডশেডিংয়ে খুবই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। দিনে ৫ থেকে ৬ বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করে। একবার চলে এক ঘণ্টার নিচে আসে না। যেহেতু দিনে আমাদের কাজ করতে হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। শ্রমিকরা পরিমাণমতো যন্ত্রাংশ উৎপাদন করতে পারছে না। বসিয়ে রেখে মজুরি দিতে হচ্ছে। জেনারেটর চালানোর বাড়তি খরচ ও ব্যয়বহুল। যা সম্ভব না।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, জেলায় ৫০০ শতাধিক চালকল চালু আছে। প্রতিদিন এ জেলা থেকে সারাদেশে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টন চাল বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ে চাল উৎপাদন ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া চালের কোয়ালিটি খারাপ হচ্ছে। তবে লোডশেডিং অনবরত চললে চালের উৎপাদন কমবে এবং দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক মো. মাহবুব জিয়া বলেন, এ সমিতির অধীনে মোট গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার। প্রতিদিন ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে প্রায় অর্ধেক সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে বেড়েছে লোডশেডিং। তবে শিগগিরই স্বাভাবিক হবে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   লোডশেডিং  অতিষ্ঠ  নওগাঁবাসী  সেচ  আমন  জমি  ফেটে চৌচির  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: