সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে নয় বছর ধরে হাসপাতাল আর চিকিৎসকের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন মা-বাবা। বিক্রি করেছেন সঞ্চয়, জায়গা-জমি, সামর্থ্যের শেষটুকুও ব্যয় করেছেন সন্তানের চিকিৎসায়। তবুও সুস্থ হয়নি আদরের সন্তান রুদ্র ঋষি। এখন চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নিতে হবে ভারতের চেন্নাইয়ে। প্রয়োজন প্রায় ১০ লাখ টাকা।
কিন্তু দিন এনে দিন খাওয়া এই পরিবারটির কাছে ১০ লাখ টাকা যেন আকাশছোঁয়া স্বপ্ন। তাই অসুস্থ সন্তানকে বাঁচাতে দেশের হৃদয়বান ও বিত্তবান মানুষের কাছে সাহায্যের আকুতি জানিয়েছেন কসবার রাউৎহাট ঋষিপল্লীর অসহায় বাবা হিরালাল ঋষি ও মা নমিতা ঋষি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের অবহেলিত একটি জনপদ রাউৎহাট ঋষিপাড়া। কয়েকশো মানুষের বসবাস এই পল্লীতে। জুতা সেলাই ও জুতা বিক্রি করেই অধিকাংশ পরিবারের জীবিকা চলে। এই পল্লীর একটি ছোট, জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস রুদ্রের।
জন্মের পর থেকেই নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছে নয় বছর বয়সি রুদ্র। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, তার নার্ভে সমস্যা রয়েছে। পায়খানা ও প্রস্রাবের বেগ সে বুঝতে পারে না। কখন পায়খানা বা প্রস্রাব হয়ে যায়, সেটিও অন্যকে জানাতে পারে না। ফলে প্রতিনিয়ত তাকে দেখাশোনা করতে হয় পরিবারের সদস্যদের।
সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে গত নয় বছর ধরে সামান্য আয়ের মধ্য থেকেই চিকিৎসার খরচ জুগিয়েছেন হিরালাল ও নমিতা। একসময় সঞ্চিত অর্থ শেষ হয়েছে, সন্তানের চিকিৎসার জন্য জায়গা-জমিও বিক্রি করতে হয়েছে। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় পরিবারটি এখন প্রায় নিঃস্ব।
অসহায় মা নমিতা ঋষি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। আর বাবা হিরালাল ঋষির চোখে এখন একটাই স্বপ্ন, যেভাবেই হোক ছেলেকে সুস্থ করে তোলা।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দেশে রুদ্রের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্ভব নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নিতে হবে। সেখানে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ১০ লাখ টাকা। কিন্তু এত বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করা দরিদ্র পরিবারের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় সন্তানের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন রুদ্রের বাবা-মা। তাদের বিশ্বাস, মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় হয়ত ফিরে আসবে তাদের সন্তানের মুখের হাসি; নতুন করে স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন দেখতে পারবে রুদ্র।
রুদ্রের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে এলমান ভূঁইয়া ফাউন্ডেশন নামে একটি সামাজিক সংগঠন কিছু আর্থিক সহায়তা করেছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
রুদ্রের চিকিৎসায় সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন ঋষিপল্লীর বাসিন্দারাও। তাদের প্রত্যাশা, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে নয় বছরের শিশু রুদ্রের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
রুদ্রের বাবা হিরালাল ঋষির বিকাশ নম্বর : ০১৭২৭-৮৮৮১৭০। সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন রুদ্রের বাবা-মা ও ঋষিপল্লীর বাসিন্দারা।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিউল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও রুদ্র ঋষির চিকিৎসার জন্য কিছু আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা