সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, আরাকান আর্মি বান্দরবানের থানচিতে ক্যাম্প স্থাপন করেছে।
প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি অস্ত্র হাতে একটি রাস্তার ওপর ঘোরাফেরা করছেন।
ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড নিয়ে অনুসন্ধান করা হলেও দেশের কোনো জাতীয় গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে বান্দরবানের থানচিতে আরাকান আর্মির ক্যাম্প স্থাপন বা এমন কোনো ভিডিওর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পরে ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ অনুসন্ধানে ‘শুটার চ্যানেল’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে গত বছরের ২৯ জুলাই প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়, যার সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওটির মিল রয়েছে।
অধিকতর অনুসন্ধানে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পোশাকের ব্যাজ পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, ফিলিপাইনের ‘মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট’ (এমআইএলএফ) নামের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের পোশাকে যে ধরনের প্রতীক বা ব্যাজ ব্যবহার করা হয়, ভিডিওর ব্যক্তিদের পোশাকেও হুবহু একই ব্যাজ রয়েছে।
এ ছাড়া ফিলিপাইনের উক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে একই ব্যাজসংবলিত যোদ্ধাদের ছবি পাওয়া যায়।
২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়েশিয়ার রাজধানীতে, ফিলিপাইন সরকার এবং দেশের সবচেয়ে বড় মুসলিম বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে অস্ত্র ও সদস্যদের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া তদারকির জন্য তুরস্ক, ব্রুনাই ও নরওয়ের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক তদারকি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য দক্ষিণ ফিলিপাইনের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান এবং মুসলিম-অধ্যুষিত ব্যাংসামোরো অঞ্চলে রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের পথ তৈরি করা।
এ ছাড়া একই ভিডিও গত বছরও প্রায় একই দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে একাধিক ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান দাবিটিকে মিথ্যা বলে শনাক্ত করে।
বান্দরবানের থানচিতে আরাকান আর্মি কর্তৃক ক্যাম্প স্থাপনের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর। মূলত ফিলিপাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট’-এর পুরোনো একটি ভিডিও ক্লিপকে সম্প্রতি বান্দরবানের ঘটনা বলে প্রচার করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ