গত ১৫ আগস্ট কোচিংয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি শান। পরে ১৭ আগস্ট পতেঙ্গা সৈকত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহ দাফনের উদ্যোগও নিয়েছিল পুলিশ। এরই মধ্যে পরিবারের সন্ধান মেলে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় নগরীর হালিশহর থানায় মামলা হয়েছে। শানের চার সহপাঠীকে আটক করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে চারজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শান নগরীর হালিশহর এলাকার এ ব্লকের চুনা ফ্যাক্টরি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত। তার গ্রামের বাড়ি সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা গ্রামে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। শান নগরীর হালিশহরের চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ আগস্ট পতেঙ্গা থানা পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে। ওই সময় মরদেহটির কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পাশাপাশি মরদেহের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠায় পুলিশ। পরে ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা থানায় যোগাযোগ করে পরিচয় শনাক্ত করেন।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. পারভেজ বলেন, ১৭ আগস্ট পতেঙ্গা সৈকত থেকে অজ্ঞাত এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তখন তার পরিচয় জানা যায়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহের ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হলে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করে পরিচয় শনাক্ত করেন।
শানের বাবা মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, শান সব সময় কোচিং থেকে সময়মতো বাসায় ফিরত। কোনো দিন একটু দেরি হলে ফোন করে জানাত। কিন্তু শনিবার বিকেল ৩টার পর থেকে তার কোনো ফোন পাওয়া যায়নি। তার মা বারবার তাকে ছেলেকে খুঁজে দেখতে বলছিলেন।
তিনি বলেন, ছেলের খোঁজে প্রথমে শানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইদকানের বাসায় যান। সেখানে কোনো তথ্য না পেয়ে ইদকানের বাবার সহপাঠী ও হালিশহর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিহাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে দুদিন আগে ফেসবুকে ছবি দেখে শানের মরদেহ শনাক্ত করেন।
পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় শানের মরদেহ দাফনের উদ্যোগও অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এরই মধ্যে চমেকের মর্গে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শানের বলে শনাক্ত করেন। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শানের পরিবার দাবি করেছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, শানের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—সবকিছুই যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
শান নিখোঁজের ঘটনায় হালিশহর থানায় মামলা করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. সুলতান আহসান উদ্দিন বলেন, মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে এবং চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এদিকে শানকে অপহরণ করা হয়েছে—এমন কথা বলে তার মামার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা আদায় করেছে একটি চক্র। পরে পুলিশ ওই বিকাশ নম্বরটি লোহাগাড়া এলাকায় সক্রিয় বলে নিশ্চিত হয়। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি।
পুলিশ বলছে, অপহরণের কথা বলে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদেরও শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।