বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী ২১ আগস্ট। আবেদন করা যাবে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত। এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রতিষ্ঠান প্রধান, প্রদর্শক, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টরসহ সব এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা ২০২৬ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী টেলিটকের সহায়তায় তৈরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলির আবেদন ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
যেভাবে আবেদন করা যাবে
বদলিতে আগ্রহী শিক্ষকরা নিজেদের মোবাইলে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আবেদন করতে পারবেন। একজন শিক্ষক পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে পারবেন।
আবেদন জমা দেওয়ার পর বদলি নীতিমালা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে। এরপর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বদলিভিত্তিক পদায়নের আদেশ জারি করা হবে।
যেসব জেলায় বদলির আবেদন করা যাবে
সাধারণভাবে শিক্ষককে চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলার শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন করতে হবে। নিজ জেলায় শূন্য পদ না থাকলে একই বিভাগের অন্য যেকোনো জেলার শূন্য পদের জন্য আবেদন করা যাবে।
এ ছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা কর্মস্থলের জেলাতেও বদলির আবেদন করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীকে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কিংবা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে হবে।
স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল-সংক্রান্ত তথ্য সফটওয়্যারে ভুলভাবে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও আবেদনকারী শিক্ষককে দায় নিতে হবে।
বদলির ক্ষেত্রে যেসব শর্ত
চাকরিতে প্রথম যোগদানের পর কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হলে শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। একইভাবে বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর সেখানে অন্তত দুই বছর দায়িত্ব পালন করতে হবে। এরপরই পরবর্তী বদলির আবেদন করা যাবে।
ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে করা আবেদন গ্রহণ করা হবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে আবেদন করলেই বদলি পাওয়ার অধিকার তৈরি হবে না। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বদলি হওয়া শিক্ষক কোনো ধরনের টিএ/ডিএ পাবেন না।
আদেশের পর ২০ দিনের মধ্যে যোগদান
বদলির আদেশ জারির পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ১০ দিনের মধ্যে শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে। এরপর অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।
অবমুক্ত হওয়ার দিন থেকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান পর্যন্ত সময়কে কর্মকাল হিসেবে গণনা করা হবে।
যাদের আবেদনের সুযোগ নেই
কোনো শিক্ষকের ক্ষেত্রে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
এ ছাড়া পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট আদেশ পরিবর্তন, সংশোধন বা বাতিল করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ