ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ দিন ধার্য করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। পরে আদালত নতুন দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে একই আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন শরিফ ওসমান হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় তাঁর অটোরিকশার গতিরোধ করে মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা। তারা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত এবং দুষ্কর্মে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দেয় ডিবি। এতে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়।
অভিযোগপত্রে থাকা আসামিরা হলেন—ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তাঁর বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭), হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)।
তাদের মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদসহ পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।
ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি করার উদ্দেশ্যে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করেন।
সময়ের আলো/এসএকে