মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ তৈরির নতুন কৌশল নিয়েছেন। তবে ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস করে দেশটিকে নতি স্বীকারে বাধ্য করার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ট্রাম্প কতটা সময় ধরে অটল থাকতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের বিরুদ্ধে ‘যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ চালানো হবে। এর মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলে দেশটির সরকারকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চান তিনি।
এর আগে ইরানকে সামরিক হামলার মাধ্যমে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা কিংবা পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় ফেরাতে নানা উদ্যোগ নিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি ট্রাম্প। ফলে যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাসের মাথায় অর্থনৈতিক চাপকে নতুন কৌশল হিসেবে সামনে এনেছে তার প্রশাসন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে আর্থিক সহায়তা দিতে পারে— এমন যেকোনো দেশের ব্যাংক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তেল চোরাচালান, অর্থ স্থানান্তর, বিনিময় প্রতিষ্ঠান, জাহাজ নিবন্ধন ও ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ইরানকে সহায়তা বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
তবে বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, কয়েক দশকের কঠোর নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে টিকে থাকা ইরান কেবল অর্থনৈতিক চাপে সহজে নতি স্বীকার করবে না। ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ড্যানিয়েল সিত্রিনোভিচের মতে, অর্থনৈতিক চাপ ইরানের জন্য বড় ক্ষতি তৈরি করতে পারে, কিন্তু এতে দেশটির কৌশল পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস করতে কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছরও লাগতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়নে ট্রাম্পকে ধৈর্য ধরে থাকতে হবে, যা তাঁর রাজনৈতিক কর্মকৌশলের সঙ্গে সবসময় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইরানকে কার্যকরভাবে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রকে উপসাগরীয় অঞ্চল, ইউরোপ ও এশিয়াজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে ইরানের তেল বিক্রির বড় ক্রেতা চীনের ওপর চাপ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা ব্যাংকগুলোকে ইরানের অবৈধ তেল বিক্রির লেনদেন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা তেহরানের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি ও পুঁজি পাচার বেড়ে দেশটির ব্যাংকিং খাতেও সংকট দেখা দিতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের সামনে বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা রয়েছে। ফলে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ট্রাম্পের জন্য সহজ হবে না।
সময়ের আলো/কেএইচ