ট্রাম্পের ছায়াসঙ্গী নাটালি হার্প কে, কেন তাকে নিয়ে এত আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে সাম্প্রতিক সময়ে প্রায়ই দেখা যাচ্ছে নাটালি হার্পকে। ট্রাম্পের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন হিসেবে

2026-08-20T10:26:53+00:00
2026-08-20T10:26:53+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬,
৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের ছায়াসঙ্গী নাটালি হার্প কে, কেন তাকে নিয়ে এত আলোচনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৬ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে সাম্প্রতিক সময়ে প্রায়ই দেখা যাচ্ছে নাটালি হার্পকে। ট্রাম্পের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন হিসেবে পরিচিত ৩৫ বছর বয়সী এই নারী এখন মার্কিন রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে। জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ ট্রাম্পকে আক্রমণ করে সম্প্রতি এক নির্বাচনী সমাবেশে বলেন, প্রেসিডেন্ট দেশের দায়িত্ব পালনের বদলে ‘বলরুম নির্মাণ ও নাটালির সঙ্গে ভ্রমণ’ করতে বেশি আগ্রহী। তার এই মন্তব্যের পরই ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের সম্পর্ক ও হোয়াইট হাউসে তার প্রভাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

হোয়াইট হাউস অবশ্য অসফের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছে। ট্রাম্পের মুখপাত্র ডেভিস ইংল হার্পকে প্রেসিডেন্টের ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী সহযোগীদের একজন’ বলে উল্লেখ করেছেন।

কে এই নাটালি হার্প
ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া হার্প পয়েন্ট লোমা নাজারিন ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১২ সালে স্নাতক এবং ২০১৫ সালে লিবার্টি ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করেন। শৈশব থেকেই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টদের প্রতি আগ্রহী ছিলেন বলে তার ভাই প্রেস্টন হার্প জানিয়েছেন। হাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর ট্রাম্পের প্রতি তার আনুগত্য আরও গভীর হয়। ২০১৮ সালে ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা ‘রাইট টু ট্রাই’ আইনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন হার্প। তার ভাষ্য, ওই চিকিৎসাই তাকে বাঁচতে সাহায্য করেছে।

২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে ট্রাম্পের প্রশংসা করে দেওয়া এক বক্তব্যে হার্প বলেছিলেন, বাজারে থাকা কেমোথেরাপি কাজে না আসার পর পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্পের কারণেই সেই সুযোগ পেয়েছেন এবং তা না হলে তিনি মারা যেতেন— এমন দাবিও করেন হার্প। তবে পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বলা হয়, হার্প যে চিকিৎসা নিয়েছিলেন সেটি যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদিত একটি ওষুধের ভিন্ন ব্যবহারের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল। ফলে ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা ‘রাইট টু ট্রাই’ আইন তার ক্ষেত্রে চিকিৎসাটি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

ট্রাম্পের ‘হিউম্যান প্রিন্টার’
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ শেষে হার্প রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কে কাজ করেন। সেখানে তিনি ট্রাম্পের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে ট্রাম্পের পরাজয় নিয়ে তার মিথ্যা দাবি প্রচার করেন। ২০২২ সালে ওই চাকরি ছেড়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ শুরু করেন হার্প। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় তার হাতে প্রায়ই একটি বহনযোগ্য প্রিন্টার দেখা যেত। ট্রাম্পকে সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও অন্যান্য তথ্য কাগজে ছাপিয়ে দেওয়ার কারণে সহকর্মীরা তাকে ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বা ‘মানব প্রিন্টার’ নামে ডাকতেন। 

ট্রাম্প সাধারণত মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দার চেয়ে কাগজে ছাপানো তথ্য পড়তে বেশি পছন্দ করেন। ফলে প্রেসিডেন্টের কাছে কোন তথ্য পৌঁছাবে, সে ক্ষেত্রে হার্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তৈরি হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

হার্প ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের পোস্ট তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অনেক সময় ট্রাম্প তাকে পোস্টের বক্তব্য বলে দেন এবং হার্প তা টাইপ করে তার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করেন।

গোপন উড়োজাহাজেও ছিলেন হার্প
গত জুলাইয়ে ইরান থেকে সম্ভাব্য হামলার হুমকির তথ্য পাওয়ার পর তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় ট্রাম্পের বিমান বদলের ঘটনা সামনে আসে। নিরাপত্তার কারণে প্রেসিডেন্টকে একটি বিকল্প বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ওই গোপন ফ্লাইটে ট্রাম্পের সঙ্গে অল্প কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহযোগী ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ড্যান স্ক্যাভিনো এবং নাটালি হার্প। সরকারের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা ছিলেন অন্য বিমানে। এই ঘটনায়ও হার্পের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

ট্রাম্পের প্রতি ‘অসাধারণ’ আনুগত্য
নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা ‘রেজিম চেঞ্জ’ বইয়ে হার্পের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে হার্প ট্রাম্পকে কয়েকটি চিঠি লিখেছিলেন। একটি চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘আপনিই আমার কাছে সবকিছু।’ আরেকটিতে ট্রাম্পকে এই জীবনে তার ‘অভিভাবক ও রক্ষক’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

আরেক চিঠিতে হার্প লিখেছিলেন, তিনি ট্রাম্পকে আনন্দ দিতে চান এবং এমন একটি দিন কাটাতে চান, যেদিন তাদের কাজ নিয়ে কথা বলতে হবে না।

হার্পের বিচ্ছিন্ন ভাই প্রেস্টন হার্প সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তার বোন কৈশোর থেকেই প্রেসিডেন্টদের প্রতি এক ধরনের আগ্রহ বা আকর্ষণ অনুভব করতেন। তিনি আগের প্রেসিডেন্টদের কাছেও চিঠি লিখেছিলেন বলে জানান।

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বোনের সম্পর্ককে শারীরিক আকর্ষণ হিসেবে দেখেন না বলে জানান প্রেস্টন। তার মতে, হার্প মনে করেন ট্রাম্প তার জীবন বাঁচিয়েছেন এবং সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই তার প্রতি গভীর অনুরাগ তৈরি হয়েছে।

কেন এখন এত আলোচনা
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হার্পকে প্রায় প্রতিদিনই প্রেসিডেন্টের আশপাশে দেখা যাচ্ছে। ওভাল অফিসে ট্রাম্পের কাছাকাছি থাকা থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশে তার সফর— সবখানেই হার্পের উপস্থিতি চোখে পড়ে। তার প্রভাবের কারণে কেউ কেউ তাকে ট্রাম্পের ‘গেটকিপার’ বা তথ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে বর্ণনা করেন। আবার কেউ তাকে ট্রাম্পের ‘কমফোর্ট ব্ল্যাঙ্কেট’ বা মানসিক স্বস্তির সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের সম্পর্ক নিয়ে যে জল্পনা শুরু হয়েছে, তার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি। সাম্প্রতিক বিতর্কের পর হোয়াইট হাউস বরং হার্পের আনুগত্য, দক্ষতা ও পরিশ্রমের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে আগে তুলনামূলকভাবে অপরিচিত এই হোয়াইট হাউস সহকারী এখন ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।


সূত্র : টাইম ম্যাগাজিন, গার্ডিয়ান, সিবিএস, নিউইর্য়ক টাইমস


সময়ের আলো/কেএইচ


  বিষয়:   সময়ের আলো  ট্রাম্প  হার্প 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: