মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চলতি বছরের শেষের দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন। তবে কিমের ছোট বোন দুই নেতার মধ্যকার এই যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের কোনো কূটনৈতিক সমঝোতার আশা অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে।
ট্রাম্পের দাবি, উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫৭টি পারমাণবিক অস্ত্র আছে। গত মঙ্গলবার তিনি ইঙ্গিত দেন, কিমের সঙ্গে তার গোপনে কথাবার্তা চলছে।
এর আগে, ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়া কমিয়ে দেবে মার্কিন বাহিনী। কিম কথা বলতে রাজি হয়েছেন কি না, জানতে চাইলে ট্রাম্প জানান, তিনি রাজি আছেন।
মার্কিন সংবাদপত্র ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ গত মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানায়, কিমের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থা করতে নিজের কর্মকর্তাদের চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প। আগামী নভেম্বরে চীনের শেনঝেন শহরে ‘অ্যাপেক’ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাম্পের চীন সফরের সময় এ বৈঠক হতে পারে।
যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের মনের ইচ্ছা পূরণ করেছেন। কিন্তু তারপরও কেন দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে এত অস্বস্তির ছায়া?
তবে কিম জং-উনের ক্ষমতাধর বোন কিম ইয়ো-জং গত বুধবার বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের কোনো যোগাযোগের ব্যাপারে তিনি ‘একেবারেই কিছু জানেন না’। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক যতই ভালো হোক না কেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্র এখনো একটি শত্রুদেশ।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো-জং বলেন, উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুভাবাপন্ন নীতিতে একটুও পরিবর্তন আসেনি। এমনকি এ মুহূর্তেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা আমাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক সামরিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্টের বিশেষ হেলিকপ্টার মেরিন ওয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে বুধবার সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে কিমের সঙ্গে এ যোগাযোগের বিষয়ে আবারও জানতে চান। কিমের সঙ্গে সরাসরি তার কথা হচ্ছে কি না, তা ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেননি। তবে এ বছর কিমের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বসব।’
ট্রাম্প বলেন, আমি কিম জং-উনকে খুব ভালো করে চিনি এবং তিনি ভালো থাকবেন আশা করি। যত দিন তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে বুদ্ধি নিয়ে চলবেন, তত দিন তিনি ভালো থাকবেন। কিন্তু তিনি যদি বোকা হয়ে যান, তাহলে হয়তো খুব একটা ভালো থাকতে পারবেন না।
এদিন, ট্রাম্প একটি গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র’ আছে। সাধারণত এ ধরনের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য কখনো প্রকাশ করা হয় না।
তিনি আরও বলেন, ইরানকেও কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে অনড় থাকলেও বিবৃতিতে কিমের বোন ট্রাম্পের সঙ্গে তার ভাইয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি কিমের ভাবাবেগ কাজ করে এবং তাদের একসঙ্গে ভালো স্মৃতি রয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ