জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজিতে ৭ বছরের ছেলেকে কয়েক ঘণ্টার জন্য একা রেখে বড় ছেলেকে নিয়ে হাইকিং চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এক বাবাকে সতর্ক করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
৪৮ বছর বয়সী ওই বাবা ছোট ছেলেকে একটি কোমল পানীয় ও কিছু হালকা খাবার দিয়ে পাহাড়ে অপেক্ষা করতে বলেন। পরে কুয়াশা ও বৃষ্টির মধ্যে ২ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতায় একটি বেঞ্চে শিশুটিকে একা বসে থাকতে দেখা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্লান্ত লাগছে জানালে বাবা ছেলেকে সেখানে অপেক্ষা করতে বলে বড় ছেলেকে নিয়ে আরও ওপরে উঠতে থাকেন। পরে ফুজির আরোহণপথের ষষ্ঠ স্টেশনের কাছে একটি পাহাড়ি আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মীরা শিশুটিকে একা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ প্রায় তিন ঘণ্টার পথ দূরের অষ্টম স্টেশনে তার বাবাকে খুঁজে পায়। সেখান থেকে ফিরে এসে ছেলের সঙ্গে দেখা করার পর পুলিশ ওই বাবাকে তিরস্কার করে।
স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, একসঙ্গে পাহাড়ে ওঠার পরিকল্পনা বাদ দিতে হলেও কোনো শিশুকে এভাবে একা রেখে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। নিজের ‘হঠকারী’ সিদ্ধান্তের জন্য ওই বাবা ক্ষমা চেয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পরিবারটি ফুজির ফুজিনোমিয়া রুট দিয়ে উঠছিল। পঞ্চম স্টেশন থেকে এই পথে চূড়ায় পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা এবং সেখান থেকে নামতে আরও প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে।
৩ হাজার ৭৭৬ মিটার উঁচু মাউন্ট ফুজি টোকিওর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। ২০১৩ সালে এটি ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পায়। জাপানের তিন ‘পবিত্র পর্বত’-এর অন্যতম ফুজিতে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ আরোহণ করেন। অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে কিছু পথে প্রতিদিন আরোহীর সংখ্যা সীমিত রাখা হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফুজিতে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে। গত জুলাইয়ে ৯৯ বছর বয়সী এক নারী পড়ে গিয়ে কোমর ও পিঠে আঘাত পাওয়ার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গত বছর ২৭ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আরোহণের মৌসুমের বাইরে পাহাড়ে উঠে হারানো মোবাইল ফোন খুঁজতে গিয়ে চার দিনের মধ্যে দুবার উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা নেন।
সময়ের আলো/কেএইচও