পাবনার ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির নবমনোনীত সদস্য সচিব মো. ইমরুল কায়েস সুমনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ১০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা হওয়া এই নেতাকে সাজা ঘোষণার পর দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দলের একাংশের নেতাকর্মীরা শহরে ঝাড়ু মিছিল করেছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী পৌর শহরে এ মিছিল বের করা হয়। মিছিল থেকে ইমরুল কায়েস সুমনের পদায়ন বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলায় গত ৬ আগস্ট পাবনার ১ম যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের বিচারক এম. সারওয়ার জাহান ইমরুল কায়েস সুমনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়।
পাবনার পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার খান জুয়েল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামির মুক্ত অবস্থায় থাকার সুযোগ নেই। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে আইন অনুযায়ী জরিমানার ৫০ শতাংশ অর্থ আদালতে জমা দিতে হবে।
তবে স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সাজা ঘোষণার ১০ দিন পর, গত ১৬ আগস্ট ইমরুল কায়েস সুমনকে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব পদে মনোনীত করা হয়। এরপর ২০ আগস্ট ঢাকার গুলশানে বিএনপি কার্যালয়ে পাবনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক বৈঠকেও তিনি অংশ নেন। বৈঠকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, সুমন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী। তার বিরুদ্ধে আদালতের দণ্ডের তথ্য গোপন করেই পদায়ন করা হয়েছে এবং তাকে দলীয় বৈঠকে নেওয়া হয়েছে।
ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু অভিযোগ করেন, আদালতে দণ্ডিত ও পলাতক আসামিকে দলীয় পদে বসানো হয়েছে। তার দাবি, এ ঘটনায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।
দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রোববার সন্ধ্যায় জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থক ও তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা ঝাড়ু ও প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। তারা ইমরুল কায়েস সুমনের পদায়ন বাতিল এবং জেলা বিএনপির নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ইমরুল কায়েস সুমন বলেন, বাদীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেন ও দেনাপাওনা ছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য আলোচনা চলছিল। এর মধ্যে মামলার তারিখের বিষয়টি তার বা তার আইনজীবীর মনে ছিল না। ফলে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি এবং তার অনুপস্থিতিতে রায় হয়েছে। রায়ের বিষয়টিও তিনি আগে জানতেন না বলে দাবি করেন। আইনিভাবে দ্রুত বিষয়টির সমাধান করবেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে দলের কাছে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেনি। মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলক কি না, সেটিও আগে যাচাই করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে। তবে আইনিভাবে কেউ দণ্ডপ্রাপ্ত হলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নেতৃত্বে থাকার সুযোগ নেই।
সময়ের আলো/মহু/কেএইচ