অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে

এসএম আলমগীর

জাতীয়

নতুন সরকার ছয় মাস সময় পার করেছে। এই সময়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি কতটা টেনে তুলতে পারল সরকার, অর্থনীতি চাঙ্গা করতে কী

2026-08-26T00:58:47+00:00
2026-08-26T00:58:47+00:00
 
  বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬,
১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
অর্থ উপদেষ্টার সাক্ষাৎকার
অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৮ এএম 
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সংগৃহীত ছবি
নতুন সরকার ছয় মাস সময় পার করেছে। এই সময়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি কতটা টেনে তুলতে পারল সরকার, অর্থনীতি চাঙ্গা করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারের ভাবনা কী- এসব বিষয়ে সময়ের আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। আলাপে ওঠে এসেছে নতুন পে-স্কেল প্রসঙ্গও। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সময়ের আলোর সিটি এডিটর এসএম আলমগীর। 

বিএনপি সরকার ছয় মাস সময় পার করল। এই ছয় মাসে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি কতটা হলো? 

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর : আমাদের নতুন সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতা নিয়েছে ছয় মাস হলো। এই সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সমাজে, রাষ্ট্রে, প্রতিষ্ঠানে এবং অর্থনীতিতে অনেক সংকট নিয়ে পথচলা শুরু করেছে। এই সংকটের ব্যাপ্তি দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনে পড়েছে এবং প্রতিটি মানুষের মাঝে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এই সংকটের সময় যার যা সঞ্চয় ছিল তা খেয়ে শেষ করে ফেলেছে। 

সঞ্চয় শেষ হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতের ভোগব্যয় মেটানোর মতো অর্থ নেই মানুষের হাতে। রাষ্ট্রক্ষমতা নেওয়ার পর আমরা আরও দেখেছি- মানুষের হাতে যেমন অর্থ নেই, তেমনই ব্যবসায়ীদের হাতেও পর্যাপ্ত টাকা নেই এবং অনেক শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলশ্রুতিতে একদিকে যেমন বিনিয়োগ বাড়েনি, তেমনই কর্মসংস্থানও তৈরি হয়নি। অন্যদিকে শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হওয়ার কারণে অনেকের চাকরি চলে গেছে। 

একই সঙ্গে প্রলম্বিত মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এ রকম একটি পুঞ্জীভূত, জটিল এবং সর্বব্যাপী সংকট নিয়ে বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরু। এর সঙ্গে শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও যুদ্ধকেন্দ্রিক সংকট- যার সঙ্গে বর্তমান সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। অতীতের সরকারগুলোর সময় বর্হিস্থ যেসব সংকট দেখা দিয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমান সময়ের বর্হিসংকট পরিস্থিতি অনেক জটিল। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, গ্যাসের দাম বেড়েছে। আগের সরকার যেহেতু আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা রেখে গেছে- তাই জ্বালানি খাতে কোনো জায়গায় কোনো বেঞ্চমার্ক নেই। অর্থাৎ পুঞ্জীভূত বহুমুখী সংকট মাথায় নিয়ে সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আমরা সরকারের ছয় মাস সময় পার করেছি। ছয় মাস কিন্তু বিরাট সময় না, কিন্তু এই ছয় মাসে অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই সূচকে ভালোর দিকে পরিবর্তন আনতে পেরেছি। সামষ্টিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে দেখলে দেখা যাচ্ছে বৈদেশিক সঞ্চিতির পরিমাণ বেড়েছে। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মুদ্রার যে স্থিতিশীলতা দরকার ছিল আনতে পেরেছি। সাম্প্রতিককালে টাকার অবস্থান আরও মজবুত হচ্ছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার একটা সংকেত আমরা দেখতে পাচ্ছি। 

বিনিয়োগ পরিস্থিতির তো তেমন একটা উন্নতি হলো না? 

দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নতিতেও সরকার অনেক গুরুত্ব দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার নতুন মডেল গ্রহণ করেছে। সরকার উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে। অর্থাৎ আমরা বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাচ্ছি। দেশে বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়লে কর আহরণের পরিমাণ বাড়বে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার ৫টি পদক্ষেপ নিচ্ছে। বর্তমান সরকার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের জন্য কর কাঠামো ঠিক করে দিয়েছে। তৃতীয়ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন বাড়ে- অর্থাৎ দেশীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে ধরনের ফিসক্যাল সাপোর্ট দরকার এবং পলিসি সাপোর্ট দেওয়া দরকার সেগুলো চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত হয়েছে। চতুর্থত ফিস্ক্যাল এবং মনিটরিং পলিসিতে হারমোনাইজেশন আনা হয়েছে। অর্থাৎ বিনিয়োগের জন্য অর্থায়েনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনা আনা হয়েছে। পঞ্চমত দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

অর্থনীতি কতটা ঘুরে দাঁড়াল? 

গ্যাস সংকট, শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, কর্মসংস্থানে চাপ, মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে এবং বিনিয়োগ বাড়াতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। আসলে সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পুঞ্জীভূত সংকটের মধ্য দিয়ে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করছে।

সবাই জানতে চাচ্ছে- কবে আসছে পে-স্কেল? 

সরকারের লক্ষ্য আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত উচ্চ পর্যায়ের সচিব কমিটির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সরকার ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত ধরে এগোচ্ছে। গেজেট পরে প্রকাশিত হলে ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরে বকেয়া বেতন-ভাতা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হতে পারে।

পে-স্কেল বাস্তবায়নে কত টাকা লাগবে? 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন পে-স্কেলের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হলে এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে।

বেতন বাড়লে দুর্নীতি কি কমবে? 

সরকার এমন দাবি করছে না। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কার্যকর ও যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা নেওয়া। মূল বেতনভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ এবং পেনশনভোগীসহ অন্যদের যুক্ত করলে এ সংখ্যা প্রায় ২০ লাখের কাছাকাছি হতে পারে। মূল্যস্ফীতি ইতিমধ্যে বড় মাত্রায় বেড়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পে-স্কেল নিয়ে কাজ চলছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি কি সংকট আরও বাড়িয়েছে? 

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় গ্যাস ও অর্থনৈতিক সংকট, শিল্প-কারখানা বন্ধ এবং কর্মসংস্থানের চাপ ছিল। এর সঙ্গে গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবসহ বৈশ্বিক অস্থিরতা সামলাতে হয়েছে। তারপরও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কি সমান সুযোগের পথ তৈরি হবে?

বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার নতুন অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে কাজ করছে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সামনে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ কি আছে? 

অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর এই প্রক্রিয়ায় সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, শিল্পে কর্মসংস্থান ধরে রাখা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করার বড় চ্যালেঞ্জ আছে সামনে। এর পাশাপাশি নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নও সরকারের জন্য বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত। সরকারের পরিকল্পনা হলো, একদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করা, অন্যদিকে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

অর্থনীতি চাঙ্গা করতে আর কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?

বিগত সরকারের আমল থেকে পরিচালন ব্যয়ের ১ নম্বর খাত হিসাবে যখন আবির্ভূত হয়েছে ঋণের সুদ ব্যয়, তখন বাংলাদেশে উন্নয়নের বয়ান প্রচারিত হয়েছে। কেউ বলেছেন উন্নয়ন মিরাকল, কেউ বলেছেন উন্নয়ন প্যারাডক্স। যেদিন খাদ্য আমদানি করা হচ্ছিল, সেদিনও পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে খাদ্য রফতানি করা হচ্ছে। এ রকম একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছিলাম। মিথ্যা তথ্য, অপতথ্য, ভুল তথ্য- এগুলো ছিল এত দিন। এ থেকে উত্তরণের পথ হচ্ছে অভ্যন্তরীণ করের হার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বৃদ্ধি করা। দ্বিতীয়ত হচ্ছে ঋণ। ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। এগুলো হচ্ছে ঋণের অর্থে বিনিয়োগের ফল কী হবে, অর্থের সময়মূল্য কী হবে এবং এর তাৎক্ষণিক বহুমাত্রিক প্রভাব কী হবে। ঋণ নেওয়া কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়। তবে দেখতে হবে কত সুদে, কার কাছ থেকে, কত দিনের জন্য তা নেওয়া হচ্ছে।
 
বর্তমান সরকার কোন ধরনের পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করছে?

জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন পথচলা শুরু হয়েছে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গির সূচনা করেছে। এই নীতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক সম্মান ও আঞ্চলিক সম্প্রীতিকে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফর অল’- এই দর্শনের ভিত্তিতে প্রণীত নীতিটি কোনো বিচ্ছিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নয়। বরং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক বজায় রাখার একটি বাস্তবধর্মী কৌশল। বাংলাদেশ মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে চায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের জন্য দেশ উন্মুক্ত থাকবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বাংলাদেশ কারও ওপর নির্ভরশীল বা কারও অধীন থেকে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় না।


বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন কেমন?

বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি- এই চার খাতে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট চলছে সারা দেশে। কবে নাগাদ স্বস্তি আসতে পারে গ্যাস-বিদ্যুতে?

আশা করছি আগামী শীতেই জ্বালানি পরিস্থিতিতে স্বস্তির দেখা মিলবে। শীতকালে জ্বালানি পরিস্থিতিতে স্বস্তি আসবে এবং গ্রীষ্মকালে পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় বিকল্প পথ খোঁজা হচ্ছে। কাতারের পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। কোন উৎস থেকে, কোন মুদ্রায় জ্বালানি কেনা হবে এবং এর অর্থায়ন কীভাবে হবে- এসব বিষয়ও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে দেশে গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিনের ঘাটতি রয়েছে। অতীতে গ্যাস অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একইভাবে দেশের সম্ভাব্য কয়লা সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি ছিল। এখন দেশের সমুদ্রসীমায় নতুন করে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ব্লক দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বর নাগাদ অনুসন্ধান ব্লকগুলোর বিষয়ে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জ্বালানি আমদানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এমন চুক্তি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের ওপর অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপ না পড়ে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 


  বিষয়:   অর্থনীতি  অর্থ উপদেষ্টা  সাক্ষাৎকার  ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: