বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, বগুড়া অঞ্চল পরিচালক ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের গড়িমসির কারণেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। জনগণের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার হবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকটি তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তিনি আসন্ন লং মার্চের পথসভার স্থান পরিদর্শন করেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটসহ সমাজে নানা ধরনের সংকট বিরাজ করছে। সরকার বারবার দাবি করছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণ দুটি বিষয়ে ভোট দিয়েছে। একটি সরকার গঠনের জন্য এবং অন্যটি সংবিধানের যেসব বিধানের কারণে একটি সরকার ফ্যাসিবাদী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল, সেগুলোর সংস্কার ও বাতিলের পক্ষে।
তার দাবি, সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার সেই গণরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, সংসদের ভেতরে তারা জনগণের গণরায় বাস্তবায়নের বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে সভা-সমাবেশ করে সরকারকে গণরায় দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত না করায় লং মার্চের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
‘সরকারই আমাদের রাজপথে আসতে বাধ্য করেছে’— বলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, যেসব বিষয়ে সংসদে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব, সেসব বিষয় রাজপথে ঠেলে না দেওয়ার জন্য সরকারকে আগে থেকেই বলা হয়েছিল। কিন্তু জনগণের দাবি ও গণরায় উপেক্ষা করে সরকার পরিস্থিতিকে রাজপথে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৃষ্ট বৈষম্যের প্রতিবাদেও লং মার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এটিএম আজহার জানান, ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চের পথে রংপুরের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় দুটি পথসভার আয়োজন করা হয়েছে। এসব পথসভায় ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেবেন।
লং মার্চ ও পথসভা সফল করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শনিবার পথসভাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে সেখানে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানান।
সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ নিজেদের দাবি আদায়ে যত বেশি সোচ্চার হবে, সরকার তত বেশি দাবি পূরণ করতে বাধ্য হবে। জনগণের দাবিকে সামনে রেখেই তারা রাজপথে নেমেছেন। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে লং মার্চ ও পথসভা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় নেতাদের লং মার্চ ও পথসভা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের নায়েবে আমীর। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো আচরণ না করে জনগণবান্ধব ভূমিকা পালন করবে বলে তারা আশা করেন।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের লং মার্চ ও পথসভা সফল করতে মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন এটিএম আজহারুল ইসলাম।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, পাবনা জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল এমপি, বগুড়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আব্দুল হক, বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমীর আবিদুর রহমান সোহেল এবং সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা শাহিনুর আলমসহ বগুড়া, পাবনা ও জয়পুরহাট জেলার নেতারা।
সময়ের আলো/কেএইচ