গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে প্রতারণার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। পরে এ মামলায় হরিদাসের জামিনের আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করেন আরেক অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম।
হরিদাস চন্দ্র তরণীর আইনজীবী বাসুদেব গুহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গত ২৪ আগস্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পরদিন তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মাসুদ রানা হরিদাসকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। পরে তার উপস্থিতিতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগে বলা হয়, মাহবুবুর রহমান ও ওবাইদুল ইসলাম কলেজজীবনের বন্ধু। তারা উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে বসবাস করেন। ওবাইদুল নিজেকে অনয় ডেভেলপার কোম্পানির মালিক পরিচয় দিয়ে জানান, খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় তার অফিস রয়েছে। পরে মাহবুব সেখানে একটি ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মাহবুব ওবাইদুলকে ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দেন। পরে ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে আরও ১৫ লাখ টাকা নেন ওবাইদুল।
তবে পরবর্তীতে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে মাহবুবকে ঘোরাতে থাকেন তিনি। টাকা ফেরত চাইলেও তা দেওয়া হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে মাহবুব নিকুঞ্জে ওবাইদুলের অফিসে গেলে তিনি জানান, তার ব্যবসায়িক অংশীদার হরিদাস চন্দ্র তরণী আসছেন।
পরে হরিদাস ওই অফিসে গিয়ে মাহবুবকে জানান, তার কাছে টাকা নেই, তবে ফ্ল্যাট আছে এবং তিনি ফ্ল্যাট দিতে পারবেন। তার কথায় বিশ্বাস করে মাহবুব ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হরিদাসকে আরও ৪৫ লাখ টাকা দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এভাবে মাহবুব ও ওবাইদুল মিলে মোট ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা দিলেও তাদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত ১২ জুলাই সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি করেন।
সময়ের আলো/এসএকে