আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ ছাড়া নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী এবং বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রশাসকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছে দলটি। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনারদের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব দাবিসহ ৯ দফা দাবি জানান জামায়াতের ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এ দিন নির্বাচন কমিশনের কাছে জানানো দাবিগুলোর বেশিরভাগই গত ২৯ জুলাই সিইসির সঙ্গে সবশেষ বৈঠকেও উত্থাপন করেছিল জামায়াতে ইসলামী।
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাব সরকারের কাছে দিচ্ছে ইসি। বিষয়টিতে তাদের আপত্তি রয়েছে।
তিনি বলেন, সুদীর্ঘকাল থেকে বাংলাদেশে সব নির্বাচনে এই শিক্ষকরা অংশ নিতে পারেন, রাজনীতি করতে পারেন, ভোট দিতে পারেন। এমনকি সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমপিওভুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। রহস্যজনক কারণে কমিশন নিজেরাই একটা বৈঠক করে সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছেন যে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। ইসির এমন সুপারিশ অসাংবিধানিক। বাতিলের দাবি করেছি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন; কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে পারবেন না, এটা হতে পারে না। সরাসরি আইন, সংবিধানের লঙ্ঘন এবং বৈষম্য করা হচ্ছে। এটা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দল, তার কোনো এ পদ-পদবি ধারণ করছেন, এমন কোনো ব্যক্তির এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত না। তাদের স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য করতে বলেছি।
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি করে গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন তাদের নির্বাচনে অযোগ্য করতে হবে এবং এখানে দুটো কথা ভুল ব্যাখ্যার কোনো সুযোগ নেই। একটা হচ্ছে তফসিল ঘোষণা হলে তারা ওই পদ থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচন করবেন, অনেকে এটা বলেন। আমরা তাও চাই না।
জামায়াতের কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে ইসি ইতিবাচক ছিল তুলে ধরে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, কিছু কিছু বিষয় ওনারা বলেন, এটা সরকারের করণীয়, আমরা পরামর্শ দিতে পারি। তবে এটুকু বলতে আমাদের দ্বিধা নেই— ক্ষমতায় যেহেতু দলীয় সরকার, তাদের যে একটা চাপ ইসির ওপর আছে, কথা শুনলে আর উত্তর দিলে বোঝা যায়, কোথাও একটা অসহায়ত্ব তাদের (ইসি) মধ্যে আছে।
১১ দলীয় ঐক্যভুক্ত দলগুলো জোটগতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে কি না— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য শুধু জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকারের কোনো পর্যায়ের নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, প্রত্যেক দল নিজ নিজ দলের প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।
বৈঠকে ইসির পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন, দুই নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ইসি সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসাইন, আবদুর রব, সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান ও জামায়াত নেতা ইয়াসিন আরাফাত।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি