বিএনপির বড় অর্জন জনগণের আস্থা

রফিক রাফি

রাজনীতি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দল ও সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপির ৪৮তম

2026-09-01T01:37:06+00:00
2026-09-01T02:08:17+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনীতি
সময়ের আলোর সাক্ষাৎকারে রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির বড় অর্জন জনগণের আস্থা
রফিক রাফি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৭ এএম  আপডেট: ০১.০৯.২০২৬ ২:০৮ এএম
সময়ের আলো গ্রাফিক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দল ও সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দলের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ, অতীত ও বর্তমানের রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গত শনিবার সময়ের আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

দীর্ঘ আলাপে উঠে এসেছে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদ, বিরোধী দলের আন্দোলনসহ সমসাময়িক রাজনীতির নানা প্রসঙ্গ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি রফিক রাফি।

সময়ের আলো : রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ৪৮ বছর পূর্ণ করছে। বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বেও রয়েছে দলটি। এ সময়ে বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

রুহুল কবির রিজভী : বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ আসে। সেগুলো ঠান্ডা মাথায় ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করাই প্রধান কাজ। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের কথা বলতে হয়। সরকার দ্রুততার সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলায় একের পর এক ব্যবস্থা নিচ্ছে। যদিও কিছু বিষয় আমাদের সাধ্যের বাইরে। ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বহনকারী অনেক জাহাজের চলাচল বন্ধ হয়েছে। ফলে একটি সংকট তৈরি হয়েছে, যেটি বৈশ্বিক সংকট। এখানে বিএনপির কোনো হাত নেই।

তারপরও সরকার দ্রুত গ্যাস আমদানি করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহের ব্যবস্থা করছে। আমি মনে করি, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে মোটামুটিভাবে সারা দেশে বর্তমানে যে গ্যাসের চাপের সমস্যা, সরবরাহে যে বিঘ্ন এবং রান্নার চুলা জ্বলছে না- এ ধরনের অভিযোগ আর থাকবে না।

আর প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরে বিএনপির সবচেয়ে বড় অর্জন কী বলে মনে করেন?

বিএনপির সবচেয়ে বড় অর্জন হলো- দলটি কয়েকবার রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে এবং মানুষের যে আস্থা পেয়েছে, সেটি ধরে রাখতে পেরেছে। মানুষের জীবনে যে বিষয়গুলোতে সংকট থাকে এবং জীবনপ্রবাহকে একটু উন্নততর করা যায়, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই জায়গাগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে। নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়া ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনার্স বা ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মেয়েদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে অনেক মা-বাবা দ্রুত বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করেন। কিন্তু একজন মেয়ে যখন শিক্ষা লাভ করবে, তখন সে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ভিত্তি তৈরি করতে পারবে। বিয়ের আগ পর্যন্ত যদি তার লেখাপড়া অবৈতনিক হয়, তা হলে জাতি দ্রুত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে আদর্শ নিয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান বিএনপির রাজনীতিতে সেই আদর্শ কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে?

আমরা সেই (জিয়াউর রহমানের) আদর্শের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনা করে বিশ্ববরেণ্য নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। তার রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি জাতিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কর্মসংস্থান সৃষ্টি থেকে শুরু করে জনস্বার্থের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ তার হাত দিয়েই হয়েছে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর আমরা দেখেছি, তিনি সেই জায়গাগুলোতেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, যেখানে মানুষের সংকট সবচেয়ে বেশি।

অনেক দেশের শ্রমবাজারে আমাদের শ্রমিকদের যাওয়া বন্ধ ছিল। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে মালয়েশিয়া সফর করেছেন, এরপর চীনে গেছেন। মালয়েশিয়ায় আলোচনা হয়েছে এবং সেখানে আমাদের শ্রমিকদের যাওয়া শুরু হয়েছে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মানুষের ন্যূনতম আর্থিক ভিত্তি নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। অতিদরিদ্র মানুষকে লক্ষ্য করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, পুরোহিতদের সম্মানীসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে যদি ন্যূনতম অর্থের প্রবাহ তৈরি করা যায়, তা হলে মানুষ অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে। 

বিশেষ করে নারীদের হাতে অর্থ গেলে তারা সেটি বিনিয়োগ করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করেন। এই চিন্তা থেকেই সামাজিক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এর সুদূরপ্রসারী ফল আমরা পাব।

বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়াই হচ্ছে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

এটি দলের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ যেকোনো জাতীয় দিবসে আমরা নেত্রীর উপস্থিতির অপেক্ষা করতাম। তাকে সঙ্গে নিয়ে শহিদ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ এবং নানা কর্মসূচি পালন করতাম। তাকে ঘিরেই ছিল আমাদের প্রেরণা ও উদ্দীপনা। আজ সেটি নেই। এটি আমাদের ব্যথিত করবে, শোকগ্রস্ত করবে। তবে তাদেরই উত্তরসূরি এবং সন্তান আজ রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। শহিদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও নীতি অনুযায়ী তিনি এখন পর্যন্ত যে কাজ করছেন, তাতে জনগণের কাছে বিষয়টি প্রতিভাত হয়েছে।

জিয়াউর রহমান যেমন খুব স্বাভাবিক ও সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন, তারেক রহমানও একই পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। এ কারণে জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপেও তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

একদিকে আমরা বেদনাবিধুর ও শোকাচ্ছন্ন- ম্যাডামকে না পাওয়ার কারণে, অন্যদিকে তারেক রহমানকে দেখে, তার মুখমণ্ডল ও চেহারায় আমরা হয়তো কিছুটা সেই শোক ভুলতে পারি। মনে হয়, আমরা তাদেরই উত্তরসূরিকে দেখছি। এটি আমাদের জন্য কিছুটা আনন্দের বিষয়। তবে তাকে না পাওয়ার কষ্ট নিঃসন্দেহে থাকবে।

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনীতি ও দর্শন বর্তমান বাস্তবতায় কতটা প্রাসঙ্গিক?

নিঃসন্দেহে জিয়াউর রহমানের রাজনীতি ও দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আমি তিনটি বিষয়কে প্রধান হিসেবে দেখি- বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করা। একটি জাতির আর কী প্রয়োজন হতে পারে?

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এটি নিশ্চিত করেছেন এবং এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এরপর বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাকে এগিয়ে নিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ক্ষমতায় এসে প্রথম দিন থেকেই এসবের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, মানুষের সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষার হার বাড়ানো এবং নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

১১ দলীয় জোট সংবিধান সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে। এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান কী?

সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে বিএনপি মনে করে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। পৃথিবীতে স্বীকৃত বিষয় হলো, যেকোনো আলোচনা পার্লামেন্টে হতে পারে। কোনো কিছু সংস্কার করতে হলে দেশের প্রচলিত সংবিধানের আওতার মধ্যেই করতে হবে।

জুলাই সনদে অনেক রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, জুলাই সনদ অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে সেখানে যে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো নিয়েও কথা বলতে চাই। ভিন্নমত প্রকাশ করা কি অন্যায়? এটা কি গণতন্ত্রে নিষিদ্ধ?

আমরা যদি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সমাজ গড়ে তুলতে চাই, তা হলে সবসময় আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত রাখতে হবে। আপনার বক্তব্য আপনি বলবেন, আমার বক্তব্যও শুনতে হবে। এরপর আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটি জায়গায় উপনীত হব।

আমি বলে দিলাম, আমার কথাই মানতে হবে; না মানলে আন্দোলন করব- এটা তো জুলাইয়ের স্পিরিট হতে পারে না। জুলাইয়ের স্পিরিট হচ্ছে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিশ্চিত করা।

আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময় শেখ হাসিনা এমন একটি কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, যেখানে দলপ্রধান বা সরকারপ্রধান যা বলবেন সেটিই চূড়ান্ত- এমন মানসিকতা ছিল। বিএনপি কখনো এটি বিশ্বাস করে না। বিএনপি বারবার আলোচনার টেবিলে বসার কথা বলেছে।

জামায়াতও গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হোক- এমন কোনো কাজ করবে বলে আমি মনে করি না। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং গণতন্ত্রের পথচলা আরও এগিয়ে নিতে সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করি।

আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কার করেছে বিএনপি। এবার কেন্দ্র থেকে কাউকে বহিষ্কার করবে না- এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি?

এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। তবে দল থেকে বলা হয়েছে, এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না। স্থানীয় ইউনিটগুলো বিষয়টি দেখবে। তবে বলা হয়েছে, দল যাকে সমর্থন করবে, তার বিপরীতে যেন দলের কেউ না দাঁড়ায়। কেউ যদি সেটি না মানে, তা হলে স্থানীয় ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যাকে সমর্থন করা হবে, তিনি যে দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবেন- এমন নয়। একজন সাধারণ সদস্যও হতে পারেন। কিন্তু তার এলাকায় জনপ্রিয়তা থাকলে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটসঙ্গীদেরও কি বিএনপি সমর্থন দেবে?

এটি আলোচনার বিষয়। যখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন কীভাবে হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হবে, তখন বিষয়টি সামনে আসবে। এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলার সময় আসেনি।

আগামী এক বছর দল পরিচালনায় আপনাদের পরিকল্পনা কী?

বিএনপি সরকার গঠন করেছে। দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আমি সরকারের অংশ মনে করি। তারা বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের দর্শন ধারণ করে সরকারের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

গণতন্ত্র মানে নাগরিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা। সরকার নাগরিকদের স্বার্থে কী করছে, নেতাকর্মীদের সেগুলো জানতে হবে এবং জনগণকে জানাতে হবে। সরকারের প্রতিটি কর্মসূচি যাতে সফল হয়, সেটিও তাদের খেয়াল রাখতে হবে।

তারা সরাসরি সরকারের কর্মসূচিতে অংশ নেবে এমন নয়। যেমন খাল খনন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের প্রয়োজন হলে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় ছাত্র-যুবকরা যেভাবে অংশ নিতেন, সেভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।

নেতাকর্মীদের আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে- তারা কোনো ধরনের অনৈতিক প্রলোভনের সঙ্গে নিজেদের জড়াবে না। নিজেদের মনকে আলোকিত ও স্বচ্ছ রাখতে হবে।

সরকারের কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যদি কেউ অন্যায় করে, নেতাকর্মীদের তা ধরতে হবে এবং কেন্দ্রে জানাতে হবে। যেমন খাল খননের ক্ষেত্রে যদি নির্ধারিত গভীরতার পরিবর্তে মাত্র এক হাত খনন করে কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হয়, তা হলে খাল খননের মূল লক্ষ্য পূরণ হবে না। নেতাকর্মীদের এসব বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো ধরনের বিভ্রান্তিতে ভোগা যাবে না। তা হলে আমরা দলকে আরও শক্তিশালী করতে পারব এবং জনসমর্থন অব্যাহত থাকবে।

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে পদক্ষেপ কী হবে?

সাংগঠনিক কার্যক্রম যেভাবে চলমান আছে, সেভাবেই চলবে। জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করা হলে সেটিকে কেন্দ্র করে জেলা পর্যায়ের কাউন্সিলগুলো সম্পন্ন করার কাজ চলবে। যেসব জেলা, থানা ও ইউনিটে কাউন্সিল বাকি আছে, সেগুলো সম্পন্ন করা হবে। এ ছাড়া কর্মিসভা ও ওয়ার্কার্স মিটিংয়ের মতো কার্যক্রমও চলবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলায় জেলায় কর্মিসভা করে স্থানীয় নেতাকর্মীরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী কর্মসূচি নিতে পারেন। র‍্যালি, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও এর অংশ। পাশাপাশি মৎস্য অবমুক্তকরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ। এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলের যুগ্ম মহাসচিবদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দিবসকে কেন্দ্র করে যে কর্মসূচি নেওয়া হয়, সেটিও সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ। জাতীয় কাউন্সিলের আগে আমরা চেষ্টা করব সর্বোচ্চ সংখ্যক জেলা কাউন্সিল সম্পন্ন করতে। সুতরাং বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ নেই, বরং চলমান।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের নেতাকর্মী ও দেশের জনগণের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?

জনগণই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শিক্ষক। আর দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আমার বার্তা হলো- তাদের মনে করতে হবে, আমরা সরকারের অংশ। তবে সরকারের অংশ হয়ে যেন তারা মনে না করেন যে আমরা প্রচণ্ড শক্তিশালী, আমরা যা মনে করব তাই হবে। সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। তা হলেই আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। নেতাকর্মীদের দলের অভ্যন্তরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। ফ্যাসিবাদের আমলে যেভাবে কারও গোয়াল থেকে গরু নিয়ে যাওয়া, বিরোধী দলের নেতার পুকুরের মাছ ধরে নেওয়া, জমি দখল করা- এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গে যেন এমন কোনো আচরণের সম্পর্ক না থাকে। বরং বিএনপির নেতাকর্মীদের এমন আচরণ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা বোধ করে। মানুষ যেন মনে করে- এরা এমন একটি রাজনৈতিক দল, যারা ক্ষমতায় থাকলে আমরা অন্তত শান্তিতে ঘুমাতে পারব। এটাই বিএনপির নেতাকর্মীদের বার্তা হওয়া উচিত।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনাকে এবং সময়ের আলোকেও ধন্যবাদ।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে


  বিষয়:   বিএনপি  উত্থান-পতন  ৪৮ বছর  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: