বিএনপির উত্থান-পতনের ৪৮ বছর

সাব্বির আহমদ

রাজনীতি

প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরে বিএনপি। উত্থান-পতন, আন্দোলন-সংগ্রাম আর ক্ষমতার পালাবদলের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় দলটি। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের হাত

2026-09-01T01:13:52+00:00
2026-09-01T01:47:07+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনীতি
বিএনপির উত্থান-পতনের ৪৮ বছর
সাব্বির আহমদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৩ এএম  আপডেট: ০১.০৯.২০২৬ ১:৪৭ এএম
সময়ের আলো গ্রাফিক
প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরে বিএনপি। উত্থান-পতন, আন্দোলন-সংগ্রাম আর ক্ষমতার পালাবদলের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় দলটি। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের হাত ধরে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কখনো ক্ষমতার শীর্ষে, কখনো রাজপথে, আবার কখনো রাজনৈতিক অস্তিত্বের কঠিন পরীক্ষায় পড়েছে। একাধিকবার সরকার গঠন, ক্ষমতা হারানো, আন্দোলন-সংঘাত, নির্বাচন বর্জন, মামলা-নির্যাতন ও নেতৃত্বের সংকট- সবকিছুর মধ্য দিয়ে দলটি টিকে থেকেছে। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের পর বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্বে বিএনপি হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। আর দীর্ঘ নির্বাসন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২০২৬ সালে আবারও ক্ষমতার মসনদে ফিরেছে দলটি। চার যুগের কাছাকাছি এই রাজনৈতিক যাত্রায় তিন নেতৃত্বে বিএনপির পথ কখনো মসৃণ ছিল না।

জিয়াউর রহমান : রাষ্ট্রনায়ক থেকে দলীয় রাজনীতির স্থপতি

জিয়াউর রহমানের সময় বিএনপির চরিত্র ছিল তার পরে নেতৃত্বে আসা অন্য দুজনের সময়ের চেয়ে মৌলিকভাবে ভিন্ন। তিনি প্রথমে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন সামরিক-রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। ১৯৭৫ সালের পর ধারাবাহিক সামরিক অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তিনি ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে ওঠেন এবং ১৯৭৬ সালে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হন। পরে রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে তুলে দিয়ে নির্বাচনি রাজনীতির দিকে এগিয়ে যান। ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচন সেই রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল।

জিয়ার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অবদান হিসেবে বিএনপি সমর্থকরা যে বিষয়টি সামনে আনেন, তা হলো- ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’কে রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং বহুদলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রবর্তন। বিএনপির নিজস্ব ইতিহাসেও এই বিষয়টিকেই দলটির ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তার সময়ের নীতিতে রাষ্ট্রনির্ভর অর্থনীতি থেকে তুলনামূলক বাজারমুখী ও বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতির দিকে যাত্রা দেখা যায়। কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা, জনশক্তি রফতানি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তার জনপ্রিয় ১৯ দফা কর্মসূচিতে উৎপাদন ও আত্মনির্ভরতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। খালখনন কর্মসূচি, সবুজ বিপ্লব এবং বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করে অর্থনীতিতে গতি আনেন।

কিন্তু এখানেই জিয়ার উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক। তাকে নিছক গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে দেখলে তার ক্ষমতায় আসার সামরিক পটভূমি এবং সামরিক আইনকে উপেক্ষা করা হয়। আবার তাকে কেবল সামরিক শাসক বললেও তার পরবর্তী রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন আয়োজন এবং বহুদলীয় রাজনীতির পুনরুত্থানের দিকটি বাদ পড়ে।

অর্থাৎ জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। আর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক প্রশ্ন হলো- সেই প্ল্যাটফর্মের জন্ম কতটা গণতান্ত্রিক ছিল এবং কতটা ক্ষমতার সামরিক কাঠামোর ওপর দাঁড়ানো ছিল।

খালেদা জিয়া : বিএনপির সবচেয়ে পরীক্ষিত নির্বাচনি নেতৃত্ব

বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি প্রথমবার প্রকৃত অর্থে একটি গণভিত্তিক নির্বাচনি দল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে। এর শুরু অবশ্য ক্ষমতায় গিয়ে নয়। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় খালেদা জিয়া বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এরপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিজয় তাকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী করে। একই বছর দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়।

প্রথম মেয়াদ : বিএনপির সবচেয়ে শক্তিশালী নীতিগত সময়?

১৯৯১-৯৬ সময়কে বিএনপির শাসনের সবচেয়ে ইতিবাচক অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে দেখা যায়। এই সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করা হয়; মেয়েদের শিক্ষায় উপবৃত্তি ও বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ বাড়ানো হয়। বেসরকারি খাত ও বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হয়। অর্থনীতিতে বাজারমুখী সংস্কার ঘটে। চালু হয় ভ্যাট ব্যবস্থা। এ ছাড়া স্থানীয় সম্পদ থেকে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিশেষ করে নারীশিক্ষায় বিনিয়োগ বিএনপি সরকারের একটি দীর্ঘস্থায়ী নীতিগত উত্তরাধিকার। বাংলাদেশের নারীশিক্ষার বিস্তারে এটি পরবর্তী সময়েও প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু এই সরকারের শেষদিকে রাজনৈতিক সংকট তীব্র হয়। বিরোধী দল সংসদ বর্জন ও হরতাল শুরু করে এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে। প্রধান বিরোধী দলসহ অন্যান্য দলও ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে এবং নির্বাচনটি ব্যাপকভাবে বিতর্কিত হয়। শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের সাংবিধানিক ব্যবস্থা করে ক্ষমতা ছাড়ে।

এখানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বেশ দ্বৈত। একদিকে তার সরকার সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে, অন্যদিকে ক্ষমতা ধরে রাখার প্রশ্নে তার সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানই এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, যার ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে।

দ্বিতীয় বড় অধ্যায় : ২০০১-২০০৬

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বড় বিজয় পায়। এরপর খালেদা জিয়া তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন। এই সময় অর্থনীতিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। রফতানি, রেমিট্যান্স, শিল্প ও টেলিযোগাযোগ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়। ২০০২-০৬ সময়ে গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপরে ছিল।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে সরকার জঙ্গিবাদ দমনে কঠোর অভিযান চালায়। র‍্যাব গঠন, অপারেশন ক্লিন হার্ট এবং জেএমবি-হুজির বিরুদ্ধে অভিযান ছিল এই সময়ের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। কিন্তু এই মেয়াদেই বিএনপির ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের ক্ষত তৈরি হয়।

দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশাসনে দলীয় প্রভাব, রাজনৈতিক সহিংসতা, জোটের শরিক জামায়াতের ভূমিকা এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো ঘটনা বিএনপির রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। একইসঙ্গে ২০০৬ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট শেষ পর্যন্ত ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থা ও সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পথ তৈরি করে।

অর্থাৎ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনে শক্তিশালী এবং সংগঠনে পোক্ত, কিন্তু শাসনামলের শেষদিকে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক সহনশীলতার প্রশ্নে দুর্বল হয়ে পড়েন। 

তারেক রহমান : আন্দোলনের দল থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার পরীক্ষা

তারেক রহমানের পর্যায়টি সবচেয়ে আলাদা। তিনি এমন একটি বিএনপির দায়িত্ব নিয়েছেন, যে দল দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে ছিল, নেতাকর্মীদের বড় অংশ মামলা-গ্রেফতার ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ছিল এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো আমূল বদলে গেছে।

২০০৯ সালে খালেদা জিয়া তাকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান করেন। পরে তিনি দলের কার্যকর রাজনৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্র হয়ে ওঠেন। দীর্ঘ সময় লন্ডনে অবস্থানের পর ২০২৫ সালের শেষদিকে দেশে ফিরে আসেন এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি বিপুল বিজয় পায় এবং দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় দুই দশক পর দলটি আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরে। এখানে তারেক রহমানের প্রথম সাফল্য নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও নির্বাচনি প্রত্যাবর্তন। কিন্তু নির্বাচনে জেতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরীক্ষা।

ক্ষমতায় আসার পর দারুণ বার্তা

ক্ষমতায় এসে তারেক রহমান অর্থনীতি, সুশাসন, আইনশৃঙ্খলা, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি তরুণদের জন্য চাকরি সৃষ্টি এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের কথা বলেছেন। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন ও প্রশাসনিক গতি ফেরানোর বিষয়গুলো সামনে এসেছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- প্রতিহিংসার রাজনীতি এড়িয়ে জাতীয় ঐক্যের বার্তা। নির্বাচনের পর তারেক রহমান প্রকাশ্যে বলেছেন, প্রতিশোধ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিকর এবং ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। এটি তার নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

তিনজনের মধ্যে কে সবচেয়ে সফল?

এখানে সরাসরি ‘কে ভালো’ বলা রাজনৈতিক পক্ষপাত তৈরি করতে পারে। বরং কোন মাপকাঠিতে বিচার করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। দল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান এগিয়ে। তিনি বিএনপিকে শুধু একটি দল হিসেবে নয়, একটি রাজনৈতিক দর্শন ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার বাহন হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনি রাজনীতিতে খালেদা জিয়া সবচেয়ে পরীক্ষিত। তিনি দীর্ঘ সময় আন্দোলন করেছেন, তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একই সঙ্গে তার শাসনামলের শেষভাগের রাজনৈতিক সংঘাত বিএনপির বড় দুর্বলতাও প্রকাশ করেছে।

আর রাজনৈতিক পুনরুত্থানের ক্ষেত্রে তারেক রহমান ইতিমধ্যেই বড় সাফল্য দেখিয়েছেন। দীর্ঘসময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিকে ২০২৬ সালে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা সাধারণ কোনো অর্জন নয়।

কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাকে মূল্যায়নের সময় এখনও আসেনি। কারণ তার সরকার মাত্র কয়েক মাসের। এখনও বোঝা যাচ্ছে না- দুর্নীতি কমানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বাড়ানো, আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিগুলো আগামীতে কতটা বাস্তবে রূপ নেয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি কোথায়?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তিন প্রজন্মের বিএনপির সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো- জিয়াউর রহমানের বিএনপি ছিল ‘রাষ্ট্র ও আদর্শ নির্মাণের বিএনপি’। বেগম খালেদার বিএনপি ছিল ‘আন্দোলন ও নির্বাচনের বিএনপি’। আর তারেক রহমানের বিএনপি এখন ‘রাষ্ট্র পরিচালনার বিএনপি’ হওয়ার পরীক্ষায়।

এই শেষ ধাপটিই সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন। কারণ বিরোধী দলে থাকলে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করা যায়; কিন্তু সরকারে থাকলে অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, চাকরি, আইনশৃঙ্খলা, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, পররাষ্ট্রনীতি সবকিছুর দায় নিতে হয়।
তারেক রহমানের সামনে তাই শুধু বিএনপিকে ক্ষমতায় রাখার চ্যালেঞ্জ নেই। বরং জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদ, খালেদা জিয়ার নির্বাচনি গণভিত্তি এবং নিজের দীর্ঘ আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও প্রতিষ্ঠাননির্ভর রাষ্ট্র পরিচালনার মডেলে রূপ দেওয়া- এটাই তার ঐতিহাসিক পরীক্ষা।

আর শেষ পর্যন্ত বিএনপির তিন নেতৃত্বের সাফল্য বিচার করার সবচেয়ে নিরপেক্ষ মাপকাঠি সম্ভবত হবে একটি প্রশ্ন : তারা কতবার ক্ষমতায় এসেছেন তা নয়; ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কতটা শক্তিশালী করে গেছেন?

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ আর সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনটি বাংলাদেশি মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি অভিশপ্ত একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে প্রথমেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে, বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়।

তিনজনেই দলের প্রতি নিষ্ঠাবান ও জনপ্রিয় : রাজনৈতিক বিশ্লেষক

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক সময়ের আলোকে বলেন, জিয়াউর রহমানের গঠন করা দলকে বেগম খালেদা জিয়া দলটিকে পরিপক্কতা দেন। তারেক রহমান এখন সেই দলের নেতৃত্বে। সৈনিক থেকে সাধারণ মানুষের নেতা হওয়া বিরল, জিয়াউর রহমান সফল। বেগম খালেদা জিয়া সংগ্রামী ও পরীক্ষিত নেতা। তারেক রহমান কারাগারে নির্যাতন সহ্য করেছেন, দেশ ছেড়েছিলেন আঠারো বছর আগে। বিদেশ থেকেই দল পরিচালনা করেছেন। মায়ের অসুস্থতা ও কারাবাসের মধ্যেও তিনি বিএনপিকে এগিয়ে নিয়েছেন। তিনজনেই দলের প্রতি নিষ্ঠাবান ও জনপ্রিয়। তাদের ভালোবাসা ও ত্যাগেই দলটি টিকে আছে, এটাই বড় সাফল্য।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচি

এদিকে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে দলটি।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ৯টায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ দলের এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা ও সর্বস্তরের নেতাকর্মী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

৫ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন-বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাসহ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরা এতে অংশ নেবেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার প্রকাশ করা হবে।
 
এ ছাড়া বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

অনুরূপভাবে সারা দেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর ইউনিটগুলো ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভা এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।

সময়ের আল/প্রিন্ট/টিকে



  বিষয়:   বিএনপি  উত্থান-পতন  ৪৮ বছর  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: