দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) দুর্বল করে রাখা এবং পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও আমদানিনির্ভরতার কারণেই দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট থেকে দেশকে বের করে এনে জ্বালানিতে স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এই পাঁচ কর্মপরিকল্পনা হলো— দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, সাইসমিক জরিপ, বাপেক্সকে শক্তিশালীকরণ, প্রোডাশন শেয়ারিং কন্ট্যাক্ট (পিএসসি) ও বিডিং এবং এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ।
বৃহস্পতিবার সংসদে সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
অন্যদিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, আগস্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে তা যাতে আর না হয়— এ জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনের শুরুতে আধা ঘণ্টা সময় নির্ধারিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে প্রধানমন্ত্রীর জন্য লিখিত প্রশ্ন ছিল ৮টি। আধাঘণ্টা সময়ে ৪টি লিখিত প্রশ্ন এবং ৬টি সস্পূরক প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, জ্বালানি ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নতুন গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে আরও সাতটি কূপের খননকাজ চলছে। এসব কূপের কাজ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। অবশিষ্ট কূপগুলো পর্যায়ক্রমে খননের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
নতুন গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে বড় ধরনের সাইসমিক জরিপের পরিকল্পনার তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্রাঞ্চলে নতুন গ্যাসের সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করে অনুসন্ধান জোরদার করা হবে।
বাপেক্সকে শক্তিশালী করার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানকে আরও সক্ষম করে তুলতে দুটি নতুন আধুনিক রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান। দীর্ঘদিন বাপেক্সকে যথাযথভাবে সক্ষম করে তোলা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয়। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফশোর ও অনশোর উভয় ক্ষেত্রেই গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ অনুমোদনের পর আন্তর্জাতিক বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলছে।
তিনি বলেন, অফশোর ও অনশোর অনুসন্ধানের মাধ্যমে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতির ওপর জ্বালানি ব্যয়ের চাপও কমানো সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাসের পাশাপাশি এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন এই টার্মিনালসহ পরিকল্পিত অবকাঠামোর মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি সক্ষমতা আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও বাড়বে এবং গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান মোকাবিলা করা সহজ হবে।
সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন, তাদের উৎপাদিত বিদ্যুতের উদ্বৃত্ত অংশ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ১৫ পয়সা দরে কিনবে।
তিনি বলেন, বিদ্যুতের বাল্ক রেটের অতিরিক্ত অর্থ সরকার প্রণোদনা হিসেবে দেবে। ফলে গড়ে প্রতি ইউনিট ৬ থেকে ৭ টাকা উৎপাদন ব্যয়ের বিপরীতে উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফার সুযোগ তৈরি হবে। এই সুবিধা পরবর্তী তিন বছর কার্যকর থাকবে।
সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রয়োজনীয় পণ্য— সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারিসহ সংশ্লিষ্ট উপকরণের ওপর শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়া হবে। ৮ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব পণ্যের ওপর প্রযোজ্য বিভিন্ন কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর ও অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
সোলারের পাশাপাশি বায়ু বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রত্যাশা এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা : কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাত ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য সরকার আগামী দশ বছর কী কী করবে সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। দ্রুতই সংসদের সামনে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী উপস্থাপন করবেন দেশের সামনে, আগামী ১০ বছর কীভাবে আমরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে সাজানোর চেষ্টা করছি। যাতে করে আমরা ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার যে টার্গেট করেছি, সেটা অর্জন করতে সক্ষম হই।
জামায়াতের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার মুন্নীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য যে উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন, অবশ্যই আমরা দেশে যেই সমস্যাটি আছে জ্বালানির, এটিকে সমাধান করতে চাইছি। ফুলবাড়ীতে যে কয়লার কথা ওনি বলেছেন, সেই কয়লা পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো কয়লার মধ্যে একটি। কাজেই আমরা এই কয়লাটিকে উত্তোলন করে যদি আমাদের জ্বালানি সংকট মেটাতে পারি, অবশ্যই সেটা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা যেরকম সাশ্রয় করবে, একইভাবে দেশের জন্য সেটি ভালো হবে। অবশ্যই কয়লা উত্তোলন করতে গেলে ওপেন পিট যদি করতে হয়, স্বাভাবিকভাবেই সেখানে কিছু বসতবাড়ি আছে। সেখানে কৃষি জমি আছে। আমরা যেহেতু রাজনীতি করি দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য; অবশ্যই সবচেয়ে আগে আমরা সিদ্ধান্ত নেব কীভাবে সেই মানুষগুলোকে আগে সেটেলমেন্ট করা যায়। তাদের যাতে আয়-রোজগার বন্ধ না হয় বরং সেই প্রকল্প গ্রহণ করলে যাতে তারা কোনো না কোনোভাবে লাভবান হতে পারে, সে সব ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেই এবং অবশ্যই পরিবেশের যে বিষয়টি আছে সেটিকে গুরুত্ব দিয়েই আমরা যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।
১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে : বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমানে মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহের কারণে কষ্টে আছে। এ পরিস্থিতির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিটগুলো চালু করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আগস্ট মাসে বাংলাদেশের মানুষকে যে কষ্ট পোহাতে হয়েছে, অন্তত সেপ্টেম্বর মাসের জন্য এই কষ্ট যেন না পোহাতে হয়, সে জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে। আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ-সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলারসহ দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী গ্রীষ্মে মানুষকে চলতি সময়ের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না বলে আমরা আশাবাদী।
তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্বেগ স্বাভাবিক। তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের প্রতিনিধিদের প্রকৃত তথ্য জানানো এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে থাকা ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করা হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য-সংকটও নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য-সংকট সামনে আসে, যার প্রভাব জ্বালানি সরবরাহের ওপর পড়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাও সংকট তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এই সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে বর্তমানে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। তাই বিদ্যুৎ, শিল্প ও গৃহস্থালি— তিন খাতের মধ্যে ভারসাম্য রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে।
বর্তমান বিদ্যুৎ-সংকটের পেছনে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকার তথ্য উল্লেখ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। একই ক্ষমতার মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরেকটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে। ভারতের আদানি গ্রুপ থেকে চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ার তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুযায়ী এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় এক হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
এ ছাড়া আমদানি করা এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত দুটি ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফেকেশন ইউনিট) ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল। গত ২১ জুলাই এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেয় এবং তা মেরামতে প্রায় ২১-২২ দিন সময় লাগে। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। তবে এ সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে