কাঁচামাল, জ্বালানি ও বিদ্যুতের খরচ এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতাসহ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে বেকারি পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। তবে সব পণ্যের দাম সরাসরি বাড়ানো হবে না। কোনো কোনো পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রেখে ওজন কমিয়েও মূল্য সমন্বয় করা হতে পারে।
সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, পাউরুটি, বিস্কুট, কেক, বাটার বনসহ সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছু পণ্যের দাম সরাসরি বাড়বে, আবার কিছু পণ্যের ওজন কমানো হবে। সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, ২০২২ সালে করোনার পর সর্বশেষ বেকারি পণ্যের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এরপর কাঁচামালসহ উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও পণ্যের দাম সেভাবে সমন্বয় করা হয়নি। ফলে এবার বাধ্য হয়ে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
জালাল উদ্দিন আরও বলেন, বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সমিতির সদস্যরা সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উৎপাদন ব্যয় বাড়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ময়দার একটি বস্তার দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ২০০ টাকা হয়েছে। তেলের ড্রামের দাম ২৫ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৩ হাজার টাকা। চিনির দামও বেড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলও আগের তুলনায় অনেক বেশি আসছে।
জালাল উদ্দিন বলেন, ‘সরকার বলছে, ১৫ শতাংশ বিল বাড়িয়েছে। কিন্তু আমাদের তো ৫০ শতাংশ বিল বেশি আসছে। আবার লাইনের গ্যাসও পাওয়া যায় না, সিলিন্ডার কিনতে হয় বেশি দামে। এসব কারণে দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
ব্যবসায়ীদের হিসাবে, এক মাসের ব্যবধানে খোলা ও প্যাকেটজাত চিনির দাম কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। আটা ও ময়দার দামও কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ভোজ্য তেলের দামও বেড়েছে। এতে পাউরুটি, বিস্কুট, কেকসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্য তৈরির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকট। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ না পাওয়ায় অনেক বেকারি স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। আগে ভোরের আগেই যেসব কারখানায় পাউরুটি, কেক ও বিস্কুট তৈরির কাজ শুরু হতো, এখন সেগুলোর অনেকগুলোকে দিনের বড় একটি সময় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।
সমিতির সভাপতি বলেন, সরকার বড় শিল্প উদ্যোক্তাদের তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দিলেও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তেমন সহায়তা পান না। অনেকেই সারা জীবনের সঞ্চয় কিংবা জমি-জমা বিক্রির অর্থ দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ক্ষুদ্র বেকারির সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে সাত শতাধিক। সমিতির নেতারা বলছেন, দাম সমন্বয়ের পরও গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকট দীর্ঘায়িত হলে বেকারি খাত আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সময়ের আলো/জেডি