দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য তথা শিল্প উৎপাদন খাতে রক্তক্ষরণ হচ্ছে বহুমুখী সংকটে পড়ে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এতটাই ভয়াবহ অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যে, সারা দিনে ২-৩ ঘণ্টাও কারখানা চালু রাখা যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদনে ধস নেমেছে। অনেক শিল্প মালিক কারখানা সাময়িক বন্ধ করে দিচ্ছেন, কেউ আবার কারখানার অর্ধেকের বেশি বন্ধ করে রাখছেন। এ কারণে শ্রমিক ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছেন শিল্প মালিকরা। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে সময়মতো পণ্য পাঠাতে পারছেন না।
এ কারণে বিদেশি ক্রেতারা একদিকে রফতানি আদেশ কমিয়ে দিচ্ছেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজার ছেড়ে অন্য বাজারে চলে যাচ্ছেন। অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান রফতানি আদেশ বাতিলও করছেন। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট দূর করাসহ অন্যান্য সংকটের দ্রুত সমাধান করা না গেলে সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনীতিবিদরা আরও বলছেন, করোনা পরবর্তী বিশ্ব মন্দা, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও নীতি জট— সবমিলে শিল্পের ওপর একসঙ্গে আঘাত এসেছে। ফলে উৎপাদন কমা, বিনিয়োগে স্থবিরতা, শিল্পে শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে এবং উদ্যোক্তারা ব্যাংক খেলাপি হয়ে পড়ছেন।
উদ্যোক্তারা বলছেন, অন্য আরও সংকটের পাশাপাশি মূলত পাঁচটি বড় কারণে এখন শিল্পে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকট জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট। গ্যাস-বিদ্যুৎ ছাড়া শিল্প অচল। শিল্পের প্রাণ গ্যাস ও বিদ্যুৎ। অথচ দুটোতেই এখন তীব্র ঘাটতি। শিল্পে এখন গ্যাস সরবরাহ ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কমছে, দিনে গড়ে ৬-৮ ঘণ্টা থাকছে লোডশেডিং। গ্যাসের চাপ এত কম যে কারখানার চাকা ঘুরছেই না। প্রধান রফতানি খাত গার্মেন্টস শিল্পের পরিস্থিতি খুবই খারাপ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে।
ফলে গার্মেন্টস খাতসহ সিরামিক, স্টিল, সিমেন্ট, কাচ শিল্পের উৎপাদন ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। কিছু পোশাক শিল্প মালিক ডিজেল জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন করলেও তাতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে তিনগুণ। এতে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিদেশি ক্রেতাদের ‘লিড টাইম’ মিস হওয়ায় অর্ডার ভিয়েতনাম ও ভারতে সরিয়ে নিচ্ছে।
যুদ্ধসহ নানা কারণে বৈশ্বিক চাহিদাও কমে গেছে। ফলে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দিচ্ছেন। মানুষ খরচ কমাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে সার্বিকভাবে পোশাকের চাহিদা কমেছে। চীন ও ভারত বাজার হারালেও ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া ভালো করছে বাংলাদেশের চেয়ে। ইইউর বাজারে পোশাকের চাহিদা কমেছে ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
শিল্পে চলমান সংকটের মধ্যে আরেকটি হচ্ছে উচ্চ সুদ ও ব্যাংক ঋণ সংকট। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়া নীতির কারণে ব্যাংক ঋণের সুদ দিতে হচ্ছে এখন ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ। এর প্রভাবে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ প্রায়। ১৫ শতাংশ সুদে কেউ কারখানা করতে চায় না। এ ছাড়া পুরোনো ঋণের চাপও রয়েছে। অনেক শিল্প উদ্যোক্তা ঋণের কিস্তি দিতে পারছেন না।
এসব সংকটের কারণে রফতানিমুখী তৈরি পোশাক খাতে নতুন করে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট— এই দুই বছরে দেশের প্রায় ৪৩৬টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে কাজ হারিয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ শ্রমিক। যদিও এই বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও নতুন ৩৩৬টি কারখানা উৎপাদনে আসায় প্রায় দুই লাখ মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শুধু যে এখন আর বড় শিল্পে সংকট সীমাবদ্ধ আছে তা নয়; ওষুধ, টেক্সটাইল, সিরামিক, চিনি পরিশোধন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং সেবা খাতেও এর প্রভাব পড়ছে। উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও ময়মনসিংহসহ সারা দেশের শিল্প-কারখানায় প্রতিদিন ২ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকার উৎপাদন ক্ষতি হচ্ছে। নতুন গ্যাস সংযোগের জন্য ১ হাজার ৮৫৭টি আবেদন ঝুলে রয়েছে। এতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার শিল্প বিনিয়োগ আটকে আছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে উৎপাদন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা ৪ বছরে ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি তার প্রভাব পড়ছে। জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়েছে শিল্পাঞ্চলগুলোতে। নরসিংদীতে ৩০০টির বেশি কারখানা বন্ধ রয়েছে। সেখানে প্রায় ৩ হাজার টেক্সটাইল ও ডাইং মিল রয়েছে, যেগুলো দেশের স্থানীয় কাপড়ের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ জোগান দেয়। কিছু কারখানা বয়লার চালাতে কাঠ ব্যবহার করছে। গাজীপুরে গ্যাসের চাহিদার মাত্র ৪৫ শতাংশ সরবরাহ করা হচ্ছে।
সেখানে দৈনিক চাহিদা ৫৯০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে সরবরাহ হয় ২৫০ থেকে ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। ওই এলাকার ১৮ থেকে ২২ শতাংশ কারখানা বন্ধ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জে প্রায় ১ হাজার ৮৫০টি কারখানার মধ্যে ৯০০টি বন্ধ রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৪৯ শতাংশ কারখানা উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। ময়মনসিংহে ২৯৩টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে ৯৯টি গ্যাসনির্ভর। সেখানে গড়ে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। হবিগঞ্জে ১৭১টি কারখানা পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকার বেশি। চট্টগ্রামেও শিল্প সক্ষমতা প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। জাতীয় পর্যায়ে নিটওয়্যার ও ডাইং শিল্পের উৎপাদন ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
ধুঁকছে অন্যান্য খাতও : চলমান নানা সংকটে অন্যান্য শিল্প খাতও রীতিমতো ধুঁকছে। জানা গেছে, দেশীয় বাজারে সিমেন্ট বিক্রি ১৮ শতাংশ কমে গেছে, ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রি কমেছে ২২ শতাংশ, স্টিল শিল্পের কমেছে ১৫ শতাংশ। কারখানায় নতুন করে উৎপাদন হচ্ছে না। গ্যাস না থাকায় ৫০ শতাংশ কারখানা সপ্তাহে তিন দিন চালু থাকছে অনেক এলাকায়। ৩০টির মধ্যে ১২টি সিরামিক কারখানাতেই উৎপাদন বন্ধের পথে। স্টিল মিলগুলো ৫০ শতাংশ ক্যাপাসিটিতে চলছে। কারণ গ্যাস নাই, বিদ্যুৎ নাই, ব্যাংক ঋণের কিস্তি দিতে পারছে না।
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বায়ার চলে যাচ্ছে অন্য বাজারে, কারণ সময়মতো পণ্য দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন কারখানা মালিকরা। তা ছাড়া এ শিল্পের কেমিক্যাল আমদানি না হওয়ায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় আছে দেশের ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান। এসব ছোট প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা এমনিতেই ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ পান না, গ্যাসের লাইনও পান না। এই অবস্থার মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট তাদের আরও বিপাকে ফেলেছে। এ শিল্পের ৩০ শতাংশ বন্ধের পথে। ৫ লাখের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পও সংকটে পড়েছে।
কী বলছেন উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা : উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এমনিতেই ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ব অর্থনীতির শ্লথগতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রফতানি বাজারের মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ও সামাজিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এ খাতে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতি তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সময়ের আলোকে বলেন, শিল্পের সংকট থেকে আমরা বের হতে পারলাম না। সেই করোনা মহামারি থেকে শুরু করে একের পর এক সংকট আমরা যারা শিল্প উদ্যোক্তা তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। নানামুখী সংকটে গত দুই বছরে নিট খাতের ১৭৬টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মহীন হয়েছেন ৭৮ হাজার ৯৮৩ জন শ্রমিক। যদিও এই সময়ে এ খাতে নতুন যুক্ত হওয়া ১৬০টি কারখানায় কাজ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯০ জন, কিন্তু চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে এসব নতুন বিনিয়োগের কারখানাগুলো চালু করাই যাচ্ছে না। জানি না কবে এই সংকট থেকে আমরা পরিত্রাণ পাব।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, শিল্প খাতের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। বর্তমানে কারখানাগুলো ক্ষমতার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ব্যবহারে সক্ষম হচ্ছে। এটি বাড়িয়ে ৮০ শতাংশে নিতে পারলে উৎপাদন স্বাভাবিক হবে, ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াবে এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধের পথ সুগম হবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিল্প উদ্যোক্তারা একদিকে যেমন তাদের কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন, অন্যদিকে ব্যাংকের দায় পরিশোধেও ব্যর্থ হচ্ছেন। তাই আমরা এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণ চাই।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সময়ের আলোকে বলেন, যদিও বর্তমান সংকট দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জ্বালানি সংগ্রহের দুর্বলতার প্রতিফলন, যার চূড়ান্ত দুর্ভোগ ভোগ করতে হচ্ছে এখন আমাদের। অনির্ভরযোগ্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কম গ্যাসের চাপ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বিকল্প জ্বালানির বাড়তি ব্যয় রফতানিকারকদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে রফতানিমুখী শিল্প ও বড় শিল্পাঞ্চলে জ্বালানি বরাদ্দে অগ্রাধিকার এবং কারখানাগুলোকে ঠিকমতো পণ্য উৎপাদনের জন্য দ্রুত গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট দূর করতে হবে। বিশেষ করে জ্বালানির সঠিক মূল্য নির্ধারণ, জ্বালানি বরাদ্দ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাস্তবসম্মত জ্বালানির নিশ্চতা দিতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বিনিয়োগ সুরক্ষার পাশাপাশি নতুন শিল্প বিনিয়োগে আস্থা তৈরির লক্ষ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, সরবরাহ নির্ভরযোগ্য করা, পূর্বানুমানযোগ্য মূল্য নির্ধারণ, দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ত্বরান্বিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় শক্তিশালী করা দরকার।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে মন্দাভাব চলছে, শিল্প খাতের উৎপাদনেও দুরবস্থা, রফতানি বাণিজ্যও সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। অর্থাৎ একমাত্র রেমিট্যান্স ছাড়া অর্থনীতির আর কোনো সূচকই ভালো অবস্থায় নেই। এ রকম পরিস্থিতিতে দেশে চলছে চরম গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট। এই সংকটই দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তুলছে। শিল্পের উৎপাদন যে হারে কমে যাচ্ছে, সেটিই এখন সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়।
কারণ ধারাবাহিকভাবে যদি শিল্পের উৎপাদন কমতেই থাকে, তা হলে শিল্প মালিকরা কতদিন টিকে থাকতে পারবেন। ইতিমধ্যেই অনেক শিল্প মালিক তাদের কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন, আরও অনেক কারখানা বন্ধের পথে। যদি এভাবে শিল্প-কারখানা বন্ধ হতেই থাকে তা হলে তো বিপর্যয় নেমে আসবে পুরো সমাজে। কারণ কারখানা বন্ধ হওয়া মানেই কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া। আর বেকারের হার বাড়লে সমাজে নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। সরকার যদিও চেষ্টা করছে সংকট কাটাতে, তবে দ্রুত আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও