দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসকের সংকট কাটাতে নতুন করে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে এসব চিকিৎসক নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। এ জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পিএসসির কাছে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে।
জনপ্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে মোট ৫ হাজার চিকিৎসক ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জনকে সহকারী সার্জন বা মেডিকেল অফিসার এবং ৩০০ জনকে ডেন্টাল সার্জন পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। জানা গেছে, দ্রুত বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩০ হাজার ৩১১ জন। অর্থাৎ, চিকিৎসকের ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন। এ অবস্থায় নতুন করে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ হলে সরকারি হাসপাতালগুলোর জনবলসংকট কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে, ২০২৫ সালের মে মাসে ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৩ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বাড়ানো এবং তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। ওই অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে এ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, স্বাস্থ্য অধিদফতর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরে অনুমোদিত মোট পদের সংখ্যা ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৪। এর মধ্যে বর্তমানে ৭৩ হাজার ৪৫টি পদ শূন্য রয়েছে, যা মোট পদের প্রায় ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পদগুলো পূরণে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য খাতের জনবল ঘাটতি কমাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ চিকিৎসক এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সাধারণ বিসিএসের তুলনায় বিশেষ বিসিএসে নিয়োগপ্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য ক্যাডারের বিশেষ বিসিএসে সাধারণত প্রিলিমিনারি ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষার ধাপ না থাকায় দ্রুত ফল প্রকাশ করে নিয়োগের সুপারিশ করা সম্ভব হয়।
সময়ের আলো/মহু