বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা ৯৮ বারের মতো পিছিয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তা দিতে পারেনি।
ফলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আগামী ১৯ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জালিয়াতির মাধ্যমে সুইফট কোড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। পরে অর্থের বড় অংশ ফিলিপাইনে পাচার করা হয়। এ ঘটনায় দেশের ভেতরের একটি চক্রের সম্পৃক্ততার সন্দেহ করা হয়েছিল।
ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে করা ওই মামলায় কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি আসামি করা হয়নি। এরপর থেকে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।
চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের পেসোতে রূপান্তর করে তিনটি ক্যাসিনোতে নেওয়া হয়। একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে বাংলাদেশকে ফেরত দেওয়া হলেও প্রায় ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এখনো উদ্ধার হয়নি।
অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ হিসেবে ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ২০২২ সালের এপ্রিলে আদালত মামলাটি খারিজ করে এখতিয়ারের সীমাবদ্ধতার কথা জানায়। এরপর নিউইয়র্কের এখতিয়ারভুক্ত অন্য আদালতে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
সময়ের আলো/এমকে