ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান।
ছবি ছেঁড়ার ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে জুমা দাবি করেন, প্রথম যে ছবিটি নষ্ট করা হয়েছে, সেটি শুধু জিন্নাহর ছবি নয়। এটি ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম জাতীয় নির্বাচনের সময়কার একটি পেপার কাটিং। ওই সময়ের একটি সংবাদমাধ্যম জিন্নাহকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল বলে জানান তিনি।
দ্বিতীয় ছবিটি ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের সময়কার বলে উল্লেখ করেন জুমা। তার ভাষ্য, বাংলার বাঘ এ কে ফজলুল হকের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের সঙ্গে সম্পর্কিত ওই ছবিতে শেরে বাংলার পাশে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহও ছিলেন। জুমা লেখেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রূপরেখা যেই লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই রচিত ছিলো সেই লাহোর প্রস্তাব এটা।’
তৃতীয় ছবিটি নিয়ে জুমা বলেন, ছবিটি ছেঁড়ার সময় দাবি করা হচ্ছিল, জিন্নাহ একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই ভাষা আন্দোলনের সূচনা। অথচ ছবিটির ক্যাপশনেই বিষয়টি উল্লেখ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
পোস্টের শেষে জুমা লেখেন, ‘যাই হোক, এইটা মাত্র শুরু। বিসমিল্লাহ।’
এর আগে রোববার সংস্কারকাজ শেষে ডাকসু ভবনের নিচতলায় অবস্থিত সংগ্রহশালাটি পুনরায় উদ্বোধন করা হয়। সেখানে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ বক্তব্য দেওয়ার সময়কার জিন্নাহর ছবি, ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের একটি দলীয় ছবি এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত জিন্নাহর ছবি-সম্বলিত ডন পত্রিকার একটি সংবাদ প্রদর্শন করা হয়।
এরপর তুমুল সমালোচনার মধ্যেই সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে সংগ্রহশালায় গিয়ে এসব ছবির তিনটি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানান ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে তিনি ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
একই দিন বিকেল ৩টার দিকে ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী সংগ্রহশালায় ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার দৃশ্যের ছবিটি জিন্নাহর ছবির ঠিক ওপরে লাগিয়ে দেন।
সময়ের আলো/এমকে