ন্যায়বিচারের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চাইলে আমাদের কঠোরতা দেখাতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জামিন দেওয়া না দেওয়া আদালতের ব্যাপার। সেখানে যদি ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করে কোনোভাবে জামিন নেওয়া বা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিংবা জামিন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আপনারা কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।’
গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতকে লক্ষ্য করে মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ক্রসফায়ার, জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘চার হাজারের বেশি বিএনপির নেতাকর্মীকে গুম ও ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছিল। ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৭০০ বিএনপির নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে সেই সময়। সেই সময়ে অসংখ্য জামায়াতের নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে, খুন করা হয়েছে শুধু জামায়াত করার কারণে কিংবা বিএনপি করার কারণে। ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছিল। সেই সব মামলার ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে বাদী হয়েছিলেন পুলিশ।’
এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলছি, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাকে আইনের আওতায় আনবেন।’
‘তিনি যত শক্তিশালীই হোন না কেন, এমনকি আমি যে রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সেই বিএনপির কোনো শক্তিশালী নেতাও যদি তাকে পৃষ্ঠপোষকতা করার চেষ্টা করেন, তার ব্যাপারেও আপনারা জিরো টলারেন্স দেখাবেন’— যোগ করেন আইনমন্ত্রী।
আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এখানে কোনো পক্ষপাত নেই বলে জানান আইনমন্ত্রী— অভিযোগ আছে, আপনি তা উপেক্ষা করবেন, সেটা হবে না। আইনের হাতে সোপর্দ করবেন। আইন আইনের মতো এগিয়ে যাবে। সে যদি আদালত থেকে জামিন পায়, জামিন পাওয়া তার অধিকার। কিন্তু পুলিশ তাকে বাইরে ঘুরে বেড়াতে দেবে, খুন করে বেড়াবে, আর আপনার সামনে জনগণের মুখে এই কথা হবে যে, খুন করলেও পুলিশ তাকে ধরতে সাহস পাচ্ছে না, এটা হতে পারে না।বাংলাদেশ পুলিশের হাত এখনও অতটা দুর্বল হয়নি। সুতরাং আপনারা আপনাদের কাজ নির্ভীকভাবে করে যাবেন।
সময়ের আলো/জেকিউএফ