ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আঞ্চলিক কার্যালয়-৫-এ ঝটিকা পরিদর্শন করেছেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। কোনো ধরনের প্রটোকল ছাড়াই করা এ পরিদর্শনে প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ব্যক্তিগত গাড়ি ও চালককে সঙ্গে নিয়ে আকস্মিকভাবে আঞ্চলিক কার্যালয়-৫-এ যান ডিএসসিসি প্রশাসক। পরিদর্শনের বিষয়টি গোপন রাখতে তিনি কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরে কার্যালয়ে প্রবেশ করে তিনি মূল ফটক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন, যাতে নির্ধারিত সময়ের পর কেউ এসে প্রবেশ করতে না পারেন।
এরপর প্রশাসক কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং হাজিরা খাতা যাচাই করেন। এতে প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে অনুপস্থিতদের বিরুদ্ধে চাকরির বিধি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলীকে।
আঞ্চলিক কার্যালয় পরিদর্শন শেষে ডিএসসিসির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাহানপুর এলাকায় যান প্রশাসক। সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উপস্থিতি ও হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করেন তিনি। ওই এলাকাতেও কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে অনুপস্থিত পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদারকে নির্দেশ দেন।
পরে মতিঝিল পীর জঙ্গির মাজার থেকে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল, ফকিরাপুল, আরামবাগ ও দৈনিক বাংলা হয়ে বঙ্গভবন পর্যন্ত এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন প্রশাসক।
অভিযানে ফুটপাতের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে পথচারীদের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা হয়।
অভিযান ও ঝটিকা পরিদর্শন প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, নাগরিক সেবা দিতে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না। সিটি করপোরেশনের কর্মচারী হোক কিংবা বাইরের কোনো পক্ষ—জনভোগান্তির কারণ হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি নাগরিক সেবায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ও পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/এসএকে