২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে আবেদন করা প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির জন্য বরাদ্দ পেয়েছে। তবে প্রথম ধাপে কলেজ পায়নি ১৪ হাজার ৪১৫ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজে ভর্তির জন্য বরাদ্দ পায়নি ২ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থী। বুধবার প্রকাশিত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও মাদরাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রথম পর্যায়ের ফল ওয়েবসাইটের (https://xiclassadmission.gov.bd) মাধ্যমে দেখতে পারছে শিক্ষার্থীরা। ভর্তির কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মোট আবেদনকারী ছিল ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ জন। তাদের মধ্যে ৯৮০ হাজার ৮১৫ জন অর্থাৎ প্রায় ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো না কোনো কলেজে বরাদ্দ পেয়েছে। বরাদ্দ পায়নি ১৪ হাজার ৪১৫ জন, যা মোট আবেদনকারীর প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
প্রথম ধাপের ফলাফলে আরও দেখা গেছে, বৈধ আবেদন থাকা সত্ত্বেও ৪১৬টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী বরাদ্দ পায়নি। আর ১১টি কলেজে ভর্তির জন্য কোনো পছন্দ বা আবেদন পাওয়া যায়নি।
জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজের বাইরে ২২০৫ : প্রথম ধাপের ফলাফলে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থী কোনো কলেজে বরাদ্দ পায়নি। অর্থাৎ এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেও তাদের প্রথম ধাপে কলেজের আসন নিশ্চিত হয়নি। তবে প্রথম ধাপে কলেজ না পাওয়া মানেই ভর্তি থেকে বঞ্চিত হওয়া নয়। পরবর্তী ধাপগুলোতে নতুন করে পছন্দক্রম দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ফলে যেসব শিক্ষার্থী প্রথম ধাপে কোনো কলেজ পায়নি, তারা পরবর্তী ধাপে পছন্দক্রম পরিবর্তন করে আবেদন করতে পারবেন।
৫৬ লাখের বেশি পছন্দের আবেদন : কেন্দ্রীয় ভর্তি ব্যবস্থাপনার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ জন আবেদনকারীর কাছ থেকে মোট ৫৬ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫টি কলেজ পছন্দ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী একাধিক কলেজ পছন্দ দেওয়ায় মোট পছন্দের সংখ্যা আবেদনকারীর তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এই পছন্দক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম, কলেজের আসনসংখ্যা, কোটা ও শিক্ষার্থীর পছন্দের ক্রমসহ নির্ধারিত নিয়মে কলেজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো শিক্ষার্থী ভালো ফল করলেও যদি প্রথম পছন্দের কলেজে পর্যাপ্ত আসন না থাকে, তা হলে তার পরবর্তী পছন্দের কলেজে বরাদ্দ হতে পারে। আবার পছন্দের তালিকায় তুলনামূলক কমসংখ্যক কলেজ রাখলে কোনো কলেজ না পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
৪১৬ কলেজে কোনো বরাদ্দ নেই : প্রথম ধাপের ফলাফলে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক চিত্রেও কিছু বিষয় উঠে এসেছে। বৈধ আবেদন থাকা সত্ত্বেও ৪১৬টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী বরাদ্দ পায়নি। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা আবেদন করলেও প্রথম ধাপের বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় কোনো শিক্ষার্থী ওই কলেজে স্থান পায়নি। অন্যদিকে ১১টি বৈধ কলেজে কোনো পছন্দ বা আবেদনই পড়েনি। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি অংশে আসন থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থী বরাদ্দের ক্ষেত্রে শূন্য ফল এসেছে। মোট কলেজের প্রায় ৯৫ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে শিক্ষার্থী বরাদ্দ পেয়েছে এবং প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে প্রথম ধাপে কোনো বরাদ্দ হয়নি।
প্রথম ধাপে বরাদ্দ ৯৮ শতাংশের বেশি : প্রথম ধাপের ফলাফলে মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জনকে কলেজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, মোট আবেদনকারীর প্রায় ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ প্রথম ধাপেই কলেজ পেয়েছে। বিপরীতে প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো কলেজে বরাদ্দ পায়নি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা