প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা আবারও শুরু করেছে ঢাকা ও নয়াদিল্লি। আগামী নভেম্বরে সুবিধাজনক সময়ে এ সফর আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা কাজ করছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আরও কয়েকটি কূটনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নভেম্বরের উপযুক্ত একটি সময়ে ভারত সফরের সময় নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
সফর সামনে রেখে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে ঢাকায় ধারাবাহিক বৈঠক হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতে নিযুক্ত হাইকমিশনার। এসব আলোচনায় সফরের কর্মসূচি ও সম্ভাব্য আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্ভাব্য আলোচ্যসূচিতে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক করার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এর আগে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তিনি সম্মেলনে অংশ নেননি এবং বাংলাদেশও কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানিয়েছে ঢাকা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, পারস্পরিক সম্মান ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত হলে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সফর হবে। তিনি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ‘রিসেট’ করার কথাও বলেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি থেকে দেওয়া ভার্চুয়াল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ জোরদার এবং সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে।
তবে এখনো সফরের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। দুই দেশের আলোচনার অগ্রগতি ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নভেম্বরের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি