২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার আগে হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের দেওয়া একটি সতর্কবার্তা ইসরায়েলের কাছে তিনিই পৌঁছে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন গাজার সাবেক ফিলিস্তিনি মন্ত্রী সুফিয়ান আবু জায়দা।
ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে আবু জায়দা বলেন, ওই সময় তিনি সিনওয়ার ও ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন। ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার আলোচনা ব্যর্থ হলে সিনওয়ার বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন— এমন বার্তাও তিনি ইসরায়েলের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।
সিনওয়ার ওই সম্ভাব্য হামলাকে একটি ‘ভূমিকম্প’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানান আবু জায়দা।
এতদিন পরিচয় গোপন ছিল
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের সাংবাদিক শ্লোমি এলদার ৭ অক্টোবরের হামলার আগে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে করা এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে একজন অজ্ঞাত মধ্যস্থতাকারীর কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই ব্যক্তি সিনওয়ার ও ইসরায়েলের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করতেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
এবার আবু জায়দা নিজেই দাবি করেছেন, সেই মধ্যস্থতাকারী তিনিই ছিলেন।
আবু জায়দা আরও জানিয়েছেন, হামলার কয়েক সপ্তাহ আগে সিনওয়ার তাকে ইসরায়েলি পক্ষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিতে বলেছিলেন। ভবিষ্যতে তিনি এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবেন বলেও জানিয়েছেন।
নেতানিয়াহুকেও সতর্ক করার দাবি
হারেৎজের ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছিল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদও ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিন জায়েদের একজন উপদেষ্টা একই মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওই বার্তা ইসরায়েলের কাছে পৌঁছে দেন।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু ওই সতর্কবার্তার ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নেননি। নেতানিয়াহু অবশ্য এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। আর আবু জায়দা তার ভিডিওতে নেতানিয়াহুকে দেওয়া ওই সতর্কবার্তার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
কে এই সুফিয়ান আবু জায়দা?
সুফিয়ান আবু জায়দা গাজার সাবেক বাসিন্দা এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক বন্দিবিষয়ক মন্ত্রী। তিনি ফাতাহর এমন একটি অংশের সঙ্গে যুক্ত, যারা সাবেক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাহলানকে সমর্থন করে।
দাহলান ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বিরোধের পর ২০১১ সালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছেড়ে যান। পরে ফাতাহর নেতৃত্ব থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়।
আবু জায়দার বর্তমান দাবি সেই আগের জল্পনার সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে ধারণা করা হয়েছিল, সিনওয়ার ও ইসরায়েলের মধ্যে যোগাযোগের মধ্যস্থতাকারী ছিলেন দাহলান অথবা তাঁর হয়ে কাজ করা কেউ।
যুদ্ধ শুরুর পর আবু জায়দা গাজা ছেড়ে মিসরে চলে যান। বর্তমানে তিনি কায়রোতে বসবাস করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আসছেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ