১০০ বছরেরও বেশি সময় পর মিলল বিড়ালের নতুন প্রজাতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বলিভিয়ার মেঘে ঢাকা পাহাড়ি বনাঞ্চল ইউনগাসে সন্ধান মিলেছে বুনো বিড়ালের এক নতুন প্রজাতির। জিনগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাণীটির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত

2026-09-18T18:19:08+00:00
2026-09-18T18:24:16+00:00
 
  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
১০০ বছরেরও বেশি সময় পর মিলল বিড়ালের নতুন প্রজাতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৯ পিএম  আপডেট: ১৮.০৯.২০২৬ ৬:২৪ পিএম
স্থানীয়ভাবে ‘তিলকায়ো’ নামে পরিচিত এই বিড়ালের বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিওপারডাস তিলকায়ো’। ছবি : সংগৃহীত
বলিভিয়ার মেঘে ঢাকা পাহাড়ি বনাঞ্চল ইউনগাসে সন্ধান মিলেছে বুনো বিড়ালের এক নতুন প্রজাতির। জিনগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাণীটির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত হওয়ার পর গবেষকেরা একে আলাদা প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে ‘তিলকায়ো’ নামে পরিচিত এই বিড়ালের বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিওপারডাস তিলকায়ো’।

তিলকায়ো দক্ষিণ আমেরিকায় বিস্তৃত টাইগার ক্যাট গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। গবেষকদের দাবি, এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর জীবিত বিড়াল পরিবারের নতুন কোনো প্রজাতি আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত ও বর্ণনা করা হলো। 

বলিভিয়ার পাহাড়ি অঞ্চল ইউনগাস ঘন সবুজ বন ও আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য পরিচিত। বছরের বড় একটি সময় এই এলাকার বন মেঘে ঢাকা থাকে। এখানে নতুন শনাক্ত বিড়ালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৬ সেন্টিমিটার এবং ওজন আনুমানিক ১ দশমিক ৪ কেজি। আকারের দিক থেকে এটি সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের চেয়েও ছোট।

গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া পাওলা নোগালেস-আসকারুনস, যিনি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একজন এক্সপ্লোরার, জানান, তিলকায়োর শরীরের লোম হালকা বাদামি। পুরো শরীরে রয়েছে অনিয়মিত আকৃতির গোলাকার ছোপ।


প্রাণীটির জীবনযাপন সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে, গবেষকেরা সংগৃহীত মল নমুনায় ছোট ইঁদুরের দেহাবশেষ পেয়েছেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী এর খাদ্যের একটি অংশ। ক্যামেরা ট্র্যাপের ছবিতেও দেখা গেছে, প্রাণীটি সম্ভবত রাতে বেশি সক্রিয়।

টাইগার ক্যাটকে গবেষকেরা ‘ক্রিপটিক প্রজাতি’ হিসেবে বিবেচনা করেন। কারণ, বিভিন্ন প্রজাতির শরীরে প্রায় একই ধরনের ছোপ ও দাগ থাকায় শুধু বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে তাদের আলাদা করা কঠিন। এ কারণেই দীর্ঘদিন টাইগার ক্যাটকে একটি প্রজাতি হিসেবে ধরা হতো। তবে, কয়েক দশক আগে পরিচালিত জিনগত গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এই গোষ্ঠীর মধ্যে একাধিক স্বতন্ত্র প্রজাতি রয়েছে।

বলিভিয়ার বিড়ালটির পরিচয় নিয়ে গবেষকদের আগ্রহ তৈরি হয় একটি প্রাণীকে পর্যবেক্ষণের পর। প্রায় ১০ বছর বয়সী ওই পুরুষ বিড়ালটি বর্তমানে বলিভিয়ার সেনদা ভার্দে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে রয়েছে। এর আগে, স্থানীয় একটি পরিবার প্রাণীটিকে পোষ্য হিসেবে রেখেছিল।


প্রাণীটির কিছু বৈশিষ্ট্য প্রচলিত টাইগার ক্যাটের বর্ণনার সঙ্গে মিলছিল না। নোগালেস-আসকারুনসের মতে, প্রচলিত বর্ণনাগুলোর বেশির ভাগই ব্রাজিলের বিড়ালের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। ফলে, বলিভিয়ায় ঠিক কোন ধরনের টাইগার ক্যাট রয়েছে, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়।

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গবেষকেরা দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে সংগৃহীত ৩৮টি বিড়ালের ডিএনএ পরীক্ষা করেন। এসব নমুনার মধ্যে ৮টি ছিল জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রাণীর নমুনা। বিশ্লেষণে দেখা যায়, এত দিন এক প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত টাইগার ক্যাট আসলে জিনগতভাবে পৃথক ৫টি বংশধারার সমন্বয়ে গঠিত।

গবেষণার সহপ্রধান লেখক এবং বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি অব অ্যান্টওয়ার্পের বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী জোনাস লেসক্রোয়ার্ট বলেন, ‘বলিভিয়ার এই টাইগার ক্যাট যে সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্রজাতি, তা গবেষকেরা শুরুতে কল্পনাও করেননি। এর আগে প্রাণীটিকে আলাদা প্রজাতি, উপপ্রজাতি বা অন্য কোনো শ্রেণি হিসেবে চিহ্নিত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়নি।’


ডিএনএ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তিলকায়োর বংশধারা প্রায় ১৪ লাখ বছর আগে অন্য টাইগার ক্যাটদের থেকে আলাদা হয়ে যায়। লেসক্রোয়ার্টের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ডিএনএতে যত বেশি পার্থক্য দেখা যায়, সাধারণত বংশধারাগুলোর মধ্যে বিচ্ছিন্নতার সময়ও তত দীর্ঘ বলে ধরা হয়। বিড়ালের ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ সময়ের পৃথক বিবর্তনকে স্বতন্ত্র প্রজাতির বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

একই গবেষণায় পেরুর ইউনগাস অঞ্চলে টাইগার ক্যাটের একটি নতুন উপপ্রজাতিও বর্ণনা করেছেন গবেষকেরা। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘লিওপারডাস টাইগ্রিনাস অ্যান্তিসুয়ো’। প্রাচীন ইনকা সাম্রাজ্যের আন্টিসুয়ু অঞ্চলের নাম অনুসারে উপপ্রজাতিটির নামকরণ করা হয়েছে।

নতুন প্রজাতি শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন গবেষকেরা। বর্তমানে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ বা আইইউসিএনের লাল তালিকায় টাইগার ক্যাটকে দুটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং তাদের সংখ্যা কমছে। নতুন গবেষণার তথ্য আইইউসিএনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পর্যালোচনায় ৫টি পৃথক বংশধারাকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এর ফলে তিলকায়োর মতো কিছু বংশধারা আগের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপন্ন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে, তিলকায়োর আবাসস্থল ইউনগাসের বনাঞ্চল নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বন উজাড়, কৃষিজমি সম্প্রসারণ, মানুষের কারণে সৃষ্ট আগুন এবং খনন কার্যক্রমের কারণে অঞ্চলটির প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্রমেই চাপে পড়ছে। গবেষকেরা মনে করছেন, ক্ষতিগ্রস্ত বন পুনরুদ্ধার, অবশিষ্ট প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং বিচ্ছিন্ন বনাঞ্চলগুলোর মধ্যে সংযোগ বজায় রাখা জরুরি।

গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ও ব্রাজিলের পন্টিফিক্যাল ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব রিও গ্রান্দে দো সুলের বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী এদুয়ার্দো আইজিরিক বলেন, ‘বিড়ালের মতো সুপরিচিত প্রাণীগোষ্ঠীর মধ্যেও নতুন প্রজাতি শনাক্ত হওয়ার ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ।’

তার মতে, পৃথিবীতে এখনো অসংখ্য প্রজাতি অজানা রয়ে গেছে এবং সেগুলোর অনেকগুলো মানুষের পরিচিত হওয়ার আগেই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

নতুন প্রজাতি শনাক্তের এই গবেষণাটি বৃহস্পতিবার কারেন্ট বায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   বিড়াল  প্রজাতি  তিলকায়ো  বলিভিয়া  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: