ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পর কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের অংশ।
রোববার নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করেছিল মমতার দল। কিন্তু শুক্রবার জানা যায়, তিনি আর নির্বাচনে লড়ছেন না। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন বলে জানা গেছে।
নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ফলে নতুন করে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগও নেই।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নন্দীগ্রামে তার দল কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবে।
তিনি আরও জানান, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে চলমান বিরোধে কংগ্রেস তার পাশে রয়েছে।
মমতা বলেন, আমরা একসঙ্গে আছি। বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করব না।
কেন নন্দীগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ?
নন্দীগ্রাম পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন তার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শুভেন্দু অধিকারী।
পরে মমতা উপনির্বাচনে ভবানীপুর আসন থেকে বিধানসভায় যান। চলতি বছরের নির্বাচনে সেই আসনেও তিনি শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যান।
এবার নন্দীগ্রামে মমতা নিজে প্রার্থী হতে পারেন— এমন আলোচনা ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি সঞ্চিতাকে প্রার্থী করেছিলেন।
সঞ্চিতা একজন শিক্ষক ছিলেন। কথিত নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় ২৬ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের পর তিনি চাকরি হারিয়েছিলেন।
তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়েও সংকট
নন্দীগ্রামের প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর একদিন আগে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করার ঘোষণা দেয়।
এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এবং রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশ— কোনো পক্ষই উপনির্বাচনে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও মমতার পাশে থাকার কথা জানিয়েছে।
তবে পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী মমতার সিদ্ধান্ত নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, নন্দীগ্রামে মমতার প্রার্থী সরে গেছেন। এবার রেজিনগরের প্রার্থীর কী হয়, সেটাই দেখার বিষয়।
তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিতে চান এমন ভোটারদের কংগ্রেসকে সমর্থনের আহ্বান জানান।
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ