স্কুল বন্ধের দিন বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে পছন্দ করত ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩)। কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় প্রকৃতির সঙ্গে ছবি তুলতে পছন্দ করত সে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিহত অপ্রতিমদের বাসায় যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এসময় সংসদ সদস্য (এমপি) মনিরুল হক চৌধুরীর কাছে এসব কথা বলেন অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার।
সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার। এসময় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকেও কাঁদতে দেখা গেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ও প্রায়ই ছবি তুলতে যেত। অনেকের সঙ্গেই ছবি তুলত। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ে এসে দুপুরের খাবার খেয়ে বের হয় অপ্রতিম। এ সময় সে আমাকে বলল- বাবা, আমি ছবি তুলতে যাব, এই ড্রেসটাই কি থাকবে নাকি পরিবর্তন করব? আমি বললাম-না, এটাই থাকুক। তারপর পরনের পাঞ্জাবি আর পায়জামা পরেই বের হয়ে যায়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও ফিরে না আসায় তার সঙ্গে নিয়ে যাওয়া মায়ের আইফোনে কল দিই। কিন্তু নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাতে পুলিশকে ইনফর্ম করি এবং ডায়েরি করি। তারপরের কাহিনি তো জানেনই।
তিনি বলেন, আমার ছেলে যদি খারাপ হতো কিংবা কোনো মেয়েলি ব্যাপার থাকতো তখন না হয় ভিন্ন কথা ছিল। কিন্তু একটা ফোনের জন্য আমার ছেলেটাকে এভাবে মেরে ফেলল! বলে ফের ডুকরে কেঁদে উঠেন তার বাবা। এসময় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বাবা ফিরোজ শাহরিয়ারকে স্বান্ত্বনা দেন।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান।
শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি অপ্রতিম। পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজের ডায়েরি করেন। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে আইফোনটি নেওয়ার জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে। আটককৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
সময়ের আলো/এনএন