কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে আনাস নামে আরেকজনকে আটক করেছে পুলিশ।
এ নিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে তুহিন নামের একজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অপ্রতিমের নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাসকে আটক করা হয়েছে। দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
কোটবাড়ি পুলিশ ফাড়ির ইন্সপেক্টর মহিবুল আলম ভূঁইয়া জানান, অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহজনকভাবে তুহিনকে আটক করা হয়েছে।
তবে তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ বা সন্দেহ রয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
শুক্রবার বিকালে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ জানায়, নিখোঁজের পর অপ্রতিমের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত হয়। ওই অবস্থানের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির মরদেহ দেখতে পায়। পরে ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে হতবিহ্বল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও তার স্বজনরা।
সময়ের আলো/জেডআই