রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ৪ দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পরে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন তমা (২০) নামের ওই তরুণী মারা যান। নিহতের পরিবারের দাবি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পরে মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত তমা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বকশিপাড়া এলাকার বাসিন্দা তোজাম্মল হকের মেয়ে। তমার মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার এবং আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তমার মৃত্যুর ঘটনায় তোজাম্মেল হক বৃহস্পতিবার মো. বক্কর ও রাসেলের নাম উল্লেখ করে এবং ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। উক্ত ঘটনায় তমার সাবেক স্বামী আবু বকরকে হেফাজতে নিয়েছে ভেড়ামারা থানা পুলিশ।
নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ১৫ই সেপ্টেম্বর পাঁচটার দিকে তমা চাচার বিয়ে উপলক্ষ্যে গোলাপনগর বাজারে কসমেটিক কেনাকাটা ও সাজার জন্য শেলী কসমেটিক অ্যান্ড বিউটি পার্লারে যান। সেখানে কেনাকাটার পর সাড়ে ছয়টার দিকে সেখান থেকে বের হন। তারপর আর মোবাইলে পাওয়া যায়নি।
পরিবারের দাবি, গোলাপনগর বাজার থেকে রাসেল বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে তমাকে মোটরসাইকেলে বিলের মাঠে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং মারধর করে। পরে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির কাছাকাছি এসে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায়।
সেখানে থেকে তাৎক্ষণিক ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে স্বাস্থ্যের অবনতি হলে কুষ্টিয়া অথবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজে রেকর্ড করা। পরে তাৎক্ষণিক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলেও জানা গেছে।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে গোলাপনগর বাঙালপাড়া এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. বক্কর(৩৫) এর সঙ্গে ফারহানা ইয়াসমিন তোমার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় চার মাস আগে তোমাদের পক্ষ থেকে ডিভোর্স নেওয়া হয়। আবু বক্কর এর মা, ভাবি প্রতিবেশীদের দাবি তমা ক্ষেমিরদিয়ার গ্রামের হৃদয় নামে প্রবাসী এক ছেলের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিল এবং মোবাইল ফোনে কথা বলতো। এই কারণেই আবু বকরের থেকে ডিভোর্স নেয়।
গোলাপনগর বাজারের শেলী কসমেটিক অ্যান্ড বিউটি পার্লারের মালিক শেলী আহমেদ বলেন, ১৫ কারিখ বিকেলে তমা তার দোকানে এসেছিল এবং ফেসিয়াল করে এবং কিছু কেনাকাটা করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার দোকান থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু সময় সে কার সাথে যেন একাধিকবার ফোনে কথা বলছিল।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তির সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ জাহেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ পুলিশ পায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম শনিবার বেলা ২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। ভিকটিমের নানি দাবি করছেন ভিকটিম নাকি তাকে ধর্ষণের কথা বলেছেন। অপরদিকে ভিকটিমের পিতা ঘটনার পরে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন সেখানে ধর্ষণের কোন উল্লেখ নেই। একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের আটকে অভিযান চলছে।
সময়ের আলো/আতা