আল্লাহ তায়ালার স্মরণে হৃদয় প্রশান্ত ও সজীব থাকে। নিয়মিত জিকিরের মাধ্যমে মুমিন বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। তবে এমন কিছু জিকির রয়েছে, যার শব্দসংখ্যা অল্প হলেও অর্থ ও ফজিলত অনেক বেশি।
উম্মুল মুমিনীন জুয়াইরিয়া (রা.)-কে নবীজি (সা.) এমনই একটি জিকির শিক্ষা দিয়েছিলেন। জিকিরটি হলো—
سُبْحَانَ ٱللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
উচ্চারণ : সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আদাদা খালকিহি, ওয়া রিদা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা আরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহ।
অর্থ : আমি আল্লাহর পবিত্রতা ও তাঁর প্রশংসা করছি তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তার সংখ্যা পরিমাণ, তাঁর সন্তুষ্টির পরিমাণ, তাঁর আরশের ওজন পরিমাণ এবং তাঁর কালামের কালির পরিমাণ।
যে কারণে জিকিরটি বিশেষ
উম্মুল মুমিনীন জুয়াইরিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) সকালে তাঁর কাছ থেকে বের হয়ে যান। তখন জুয়াইরিয়া (রা.) জায়নামাজে বসে জিকির করছিলেন। দিনের এক-চতুর্থাংশ সময় পার হওয়ার পর রাসুল (সা.) ফিরে এসে দেখেন, তিনি তখনো একইভাবে জিকিরে মগ্ন।
তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি যাওয়ার সময় যেভাবে ছিলেন, এখনো কি সেভাবেই আছেন? জুয়াইরিয়া (রা.) হ্যাঁ বললে রাসুল (সা.) বলেন, তিনি চলে যাওয়ার পর চারটি বাক্য তিনবার পাঠ করেছেন। এগুলো যদি জুয়াইরিয়া (রা.) সকাল থেকে এতক্ষণ পর্যন্ত যে জিকির করেছেন, তার সঙ্গে ওজন করা হয়, তাহলে এই চারটি বাক্যই ওজনে বেশি ভারী হবে।
হাদিসটি থেকে জিকিরটির বিশেষ মর্যাদা ও ব্যাপক ফজিলতের বিষয়টি জানা যায়।
সূত্র : সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৮০৬
সময়ের আলো/এসএকে