সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

নিউইয়র্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির মাধ্যমে একটি

2026-09-25T06:33:26+00:00
2026-09-25T07:09:53+00:00
 
  শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১০ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৩ এএম  আপডেট: ২৫.০৯.২০২৬ ৭:০৯ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন। ছবি: বাসস
নিউইয়র্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, স্বাবলম্বী ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সমৃদ্ধ, স্বাবলম্বী ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয়, ধর্ম বা জাতি নির্বিশেষে প্রত্যেকে উদ্বেগহীনভাবে, নিরাপদে এবং সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।’

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় অগ্রগতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সরকার ‘থ্রি-আর’ (রিকভারি, রিস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন) কৌশল গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।’ সরকারের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড-এর সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের কর্মক্ষম জনগণকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে বিস্তারিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের স্টার্ট-আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরিতে চলতি অর্থবছরে সরকার ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরে সরকারের সব পরিকল্পনার অগ্রভাগে রয়েছেন নারীরা, কারণ বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী।

তিনি বলেন, ‘সরকার নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নারী উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’

নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করতে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে নারীদের জন্য নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, সরকার স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ চালু করেছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার কেবল নির্বাচনী গণতন্ত্র নয়, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রও নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছায়।

এই লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক বলে মনে করে।’

বিভিন্ন খাতে সহায়তার জন্য চালু করা এই কার্ডগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষাখাতে ব্যয় পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

নৈতিকতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে পাঠ্যক্রম প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

প্রথম শ্রেণি থেকেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলের ব্যাগ, ইউনিফর্ম ও বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগগুলো স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির হার বাড়াবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে শিক্ষাক্রমের বিষয় হিসেবে প্রথমবারের মতো স্পোর্টসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত জুন মাসে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত মাসব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্টে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয় বলে তিনি জানান।

বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি ও বিজ্ঞানের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী ও ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতা নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সবার হাতের নাগালে আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামীদিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভাজনে পরিণত হোক।’

বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের প্রতি সম্মান করে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রায় কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে।  সবার জন্য ন্যায্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ এবং দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল যাতে দেশে দেশে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো যায় এ ব্যাপারে জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।’

রোহিঙ্গা সংকটের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

এই সংকটের একমাত্র সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন। প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নয়নে ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রাখছে বলে জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা অংশীদারিত্ব, উদ্ভাবন এবং দেশি-বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে তরুণরা ভয় বা বাধা ছাড়াই তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে এবং প্রতিটি শিশু তার পূর্ণ সম্ভাবনা বিকশিত করার সুযোগ পেয়ে বেড়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোপরি, জনগণ পাবে একটি নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা। এজন্যই আমরা বলি, ‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’।

সময়ের আলো/টিকে

  বিষয়:   সমৃদ্ধ  গণতান্ত্রিক  বাংলাদেশ  অঙ্গীকার  প্রধানমন্ত্রী  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: