বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণে ৭০০ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য মো. সেলিম ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে জাতীয়করণের কোনো বিকল্প নেই।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সেলিম ভূঁইয়া বলেন, দেশের অনেক নন-এমপিও শিক্ষক সরকার বা প্রতিষ্ঠান কোনো জায়গা থেকেই নিয়মিত বেতন পান না। ফলে তাদের অনেকের সন্তানও অনাহার-অর্ধাহারে জীবনযাপন করছে। এসব শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তিনি।
তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তাও নেই। সরকারি অনুষ্ঠানে কোনো শিক্ষক অংশ নিলে তার অনুপস্থিতির সুযোগে ব্যবস্থাপনা কমিটি তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারে। বর্তমান সরকারের সময়ে এমন ঘটনা না ঘটার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও আর্থিক সচ্ছলতার জন্য জাতীয়করণ প্রয়োজন।
সেলিম ভূঁইয়া জানান, ২০২৫ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং ২০২৪ সালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে হিসাব দেওয়া হয়েছিল। তার হিসাব অনুযায়ী, ৭০০ কোটি টাকা হলেই দেশের বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ সম্ভব। এ সংক্রান্ত হিসাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের অবসর সুবিধা, ইনক্রিমেন্ট, চিকিৎসা ভাতা ও বাড়িভাড়া বাড়ানোর মতো বিভিন্ন উদ্যোগ অতীতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও অবসরভাতার জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ৭৫ হাজার শিক্ষককে সেই অর্থ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানিয়ে সেলিম ভূঁইয়া বলেন, এ কাজে সরকার ও শিক্ষকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
এবার বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য, ‘শিক্ষকদের পাশে : পেশার সুরক্ষায় ৬০ বছর, মর্যাদা এগিয়ে নেওয়া এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়া’।
সময়ের আলো/এমকে