প্রিজনভ্যান থেকে আসামির পলায়ন প্রকৃতপক্ষে কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং বিষয়টি টাকার বিনিময়ে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় সাজানো বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দফতরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
ইসরাইল হাওলাদার জানান, ২৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে ২৯ জন আসামিকে প্রিজনভ্যানে করে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে আনার সময় কোনাবাড়ী থানার বাইমাইল এলাকার পশ্চিমে হাজতি বন্দি পিচ্চি রাজা (৩৪) কৌশলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কোনাবাড়ী থানায় পেনাল কোডের ২২৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলার তদন্তভার জিএমপি ডিবি (দক্ষিণ) বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজনভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একইসঙ্গে এই ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
তিনি বলেন, তদন্তে নেমে ডিবি পুলিশ বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহ করে। তদন্তে উঠে আসে, আদালত থেকে ফেরার পথে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে প্রিজন ভ্যান থামানো হয়। সেখানে স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, ড্রাইভার নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে ভ্যানের চাবি নিয়ে পিচ্চি রাজা এবং অপর এক হাজতি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে নামান।
তিনি আরও বলেন, পরে খাইরুল বাশারকে ভ্যানের সামনের অংশে রাখা হলেও পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর আর প্রিজনভ্যানে ওঠেননি। বরং আগে থেকেই অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। পরবর্তীতে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে কোনাবাড়ী এলাকায় পলায়নের নাটক সাজানো হয় বলে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পিচ্চি রাজাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ্য করেন পুলিশ কমিশনার।
সময়ের আলো/কেএইচও