মোটরসাইকেল ও গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
বিআরটিএর সাম্প্রতিক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা ছাড়াই শুধু মূল কর ও প্রযোজ্য ফি জমা দিয়ে মোটরযানের কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। এর আওতায় ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে।
বিআরটিএ জানিয়েছে, মোটরযান মালিক ও চালকদের আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বকেয়া কাগজপত্র হালনাগাদ করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে যাদের গাড়ি বা মোটরসাইকেলের কাগজপত্র মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
মোটরসাইকেল বা গাড়ি বিক্রির পর নতুন মালিকের নামে মালিকানা পরিবর্তন না করলেও ঝামেলায় পড়তে পারেন পুরনো মালিক। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক।
বিআরটিএ জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি বা মোটরসাইকেল কেনার পর নতুন মালিক মালিকানা পরিবর্তন না করেই সেটি ব্যবহার করছেন। এতে পরবর্তী সময়ে পুরনো মালিককে কর ও অন্যান্য আর্থিক দায়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। মালিকানা পরিবর্তন না হলে সংশ্লিষ্ট মোটরযানের জন্য নির্ধারিত অগ্রিম আয়কর এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর ও পরিবেশ সারচার্জের দায় পুরনো মালিকের ওপর পড়তে পারে।
এদিকে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সহজ করতে অনলাইন সেবাও চালু রেখেছে বিআরটিএ। বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আবেদন ও ফি পরিশোধের সুবিধা রয়েছে।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতার প্রয়োজনীয় ফরম, ফি জমার রশিদ এবং মোটরযানের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে হয়।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সে দোষসূচক পয়েন্ট কাটার ব্যবস্থাও কার্যকর করেছে বিআরটিএ।
আইন অনুযায়ী প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ১২টি পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তির পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে নির্ধারিত দোষসূচক পয়েন্ট কাটা হতে পারে। তাই মোটরযান মালিক ও চালকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গাড়ি বা মোটরসাইকেলের কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং প্রয়োজনীয় মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিআরটিএ।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ