নামাজ মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সর্বাবস্থায় নামাজ আদায় প্রতিটি মুমিনের ওপর অত্যাবশক। কেউ অসুস্থ হলেও তার নামাজ আদায় করতে হবে। তবে নামাজ আদায়ের পদ্ধতি তখন ভিন্ন হতে পারে। অসুস্থ ব্যক্তির যতক্ষণ হুঁশ-জ্ঞান থাকবে ততক্ষণ তার ওপর নামাজ আদায় ফরজ। রোগীর অবস্থা যতই শোচনীয় হোক না কেন। নামাজ ছেড়ে দেওয়া মারাত্মক গুনাহ।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো, যদি না পারো তা হলে বসে নামাজ পড়ো, যদি তাও না পারো, তা হলে ইশারা করে নামাজ আদায় করো’ (বুখারি, হাদিস : ১০৫০)। এ হাদিস থেকে নামাজের গুরুত্ব স্পষ্ট বুঝে আসে, অসুস্থতার কারণে নামাজ ছেড়ে দেওয়া যাবে না। অসুস্থ ব্যক্তি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহিহ পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করতে হবে।
অসুস্থ ব্যক্তির নামাজ আদায়ের পদ্ধতি : যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে পড়তে অক্ষম, সে বসে বসে রুকু-সেজদা আদায় করে নামাজ পড়বে। বসে রুকু সেজদা আদায়কারী নামাজে রুকুর তুলনায় সেজদায় সামান্য বেশি ঝুঁকবে। না হয় তার নামাজ শুদ্ধ হবে না (তিরমিজি, হাদিস : ৩৭৬)। বসে সেজদা করার জন্য কোনো জিনিস ওপরে তোলা এবং সেটাতে সেজদা করা— এসবের প্রয়োজন নেই। (সুনানে কুবরা, হাদিস : ৩৮১৯)
ইশারা করে নামাজ আদায় : অসুস্থতার কারণে বসে নামাজ পড়তে অপারগ হলে, শুয়ে ইশারার মাধ্যমে নামাজ পড়বে। অসুস্থ ব্যক্তিকে তখন কাত করে কেবলামুখী হয়ে শোয়াবে এভাবে ইশারা করে নামাজ আদায় করবে। কিংবা তার পা কেবলার দিকে রেখে চিত করে শোয়াতে হবে। মাথা সামান্য ওপরে তুলে শোয়াবে; যাতে চেহারা কেবলার দিকে হয়। এরপর ইশারা করে রুকু-সেজদা করবে (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ১/২৭৩)। তখন যদি অন্তত মাথা দিয়েও ইশারা করা হয়— তা রুকু সেজদার স্থলাভিষিক্ত হয়ে যাবে।
ছুটে যাওয়া নামাজের কাজা : অসুস্থ ব্যক্তি যদি মাথা দিয়েও ইশারা করার সক্ষমতা না রাখে তা হলে এ অবস্থায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শেষ হওয়ার পর অবস্থার উন্নতি হয়, তখন সব নামাজ মাথা ইশারা করে কাজা করবে। যদি এর চেয়ে বেশি সময়েও উন্নতি না হয়, তা হলে ওইসব নামাজ তার দায়িত্ব থেকে চলে যাবে। এগুলো তাকে আর আদায় করতে হবে না। (মুআত্তা মুহাম্মদ, হাদিস : ২৭৮)।
বেহুঁশ কিংবা পাগল হওয়া ব্যক্তির নামাজ : হঠাৎ কোনো লোক পাগল বা বেহুঁশ হয়ে পড়লে তখন দেখতে হবে কতক্ষণ পর্যন্ত এভাবে থাকে। যদি পাঁচ ওয়াক্ত বা তার কম সময় হয়, তা হলে ভালো হওয়ার পর তা কাজা করবে। যদি এর চেয়ে বেশি হয়, তবে ওই সময়ের নামাজ কাজা করতে হবে না। যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামাজ শুরুর পর দাঁড়াতে অক্ষম হয়ে যায়, তখন সে বসে নামাজ পরিপূর্ণ করবে।
যদি বসতেও অক্ষম হয়, তা হলে শুয়ে হলেও তা পরিপূর্ণ করবে (বুখারি, হাদিস : ১০৫০)। এমনিভাবে যদি অসুস্থ ব্যক্তি নামাজের মাঝে সুস্থ হয়ে যায় তা হলে সে বাকি নামাজ সুস্থ ব্যক্তির মতো আদায় করবে।
লেখক : প্রাবন্ধিক, দোহা, কাতার
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও