বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘এলপিজির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা ও আগামী বছরজুড়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার।’
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি।
এলপিজি ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ এবং কমিশন বাড়ানোর দাবিসহ বিভিন্ন প্রতিবাদে ১৫ ও ১৬ অক্টোবর (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) সারাদেশে দুই দিন এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এলপি গ্যাস ট্রডার্স কো-অপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলার মাধ্যমে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়। এলপিজি ডিলাররা তাদের কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দুই দিন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে বর্তমান ও আগামী বছরে এলপিজির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে, সেই কৌশল বিস্তারিত জানানোর সময় এখনো আসেনি।’
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এলপিজি একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এ পণ্যের সরবরাহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কেউ যদি বাজার কারসাজি, বাজারব্যবস্থার অপব্যবহার কিংবা জনস্বার্থবিরোধী কোনো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেন, সরকার তা কঠোর হাতে দমন করবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকার সহ্য করবে না। কারণ, এলপিজির সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা জড়িত।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা হতে পারে। লাভ-লোকসানের হিসাব কিংবা কমিশন কমবেশি হওয়া নিয়ে বিরোধও দেখা দিতে পারে। তবে, এ ধরনের বাণিজ্যিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধৈর্যের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কথা শুনতে এবং তাদের সমস্যার সমাধানে প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু নিজেদের স্বার্থে বাজার পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে কেউ জনসাধারণকে জিম্মি করার চেষ্টা করলে, সরকার তা প্রতিহত করবে।’
বৈঠকের পর কবে নাগাদ এলপিজি সমস্যার সমাধান হবে, জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এলপিজি বাংলাদেশের নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য নয়, এটি আমদানিনির্ভর। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরা যেসব উৎস থেকে সাধারণত এলপিজি আমদানি করেন, সেসব অঞ্চলে বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ কারণে আমদানিকারকদেরও বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে।’
দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহে কোনো ঘাটতি তৈরি না হওয়া, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং আগামী বছরজুড়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার কৌশল প্রণয়ন করতেই আজকের বৈঠক হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এর সঙ্গে খুচরা বিক্রেতাদের ধর্মঘটের হুমকির বিষয়টি যুক্ত হয়েছে। তাদের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বার্তা দেওয়া হয়েছে, বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) তাদের সঙ্গে বৈঠক করছে। বিইআরসির সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। তবে, অত্যাবশ্যকীয় পণ্যকে কেন্দ্র করে দেশকে জিম্মি করার কোনো প্রচেষ্টা সরকার মেনে নেবে না।’
সময়ের আলো/মহু