টেস্ট ক্রিকেটে চলতি বছর দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দুটিতেই জেতে নাজমুল শান্ত-লিটন দাসরা। এরপরই যেন ছন্দ কাটে। জিম্বাবুয়ের মাটিতে গিয়ে লজ্জার হার দেখে টাইগাররা। আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ লজ্জার ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়। তবে হতাশার হার শেষে অস্ট্রেলিয়া সিরিজটি ছিল শান্তদের প্রলেপের মিশন।
প্রথমবার অজিদের বিপক্ষে তাদের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ নেন তারা। তবে এই সুখ বেশি দিন সয়নি। পচা শামুকে পা কাটার মতো সদ্য শেষ হওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে হতাশার ড্র উপহার দেয় শান্তর দল। দারুণ খেলেও আফগানদের ধরাশায়ী করতে পারেনি তারা। চতুর্থ ইনিংসে ১৪২ ওভার ব্যাট করে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফগানরা। এই টেস্টের পর বোদ্ধা-সমর্থকদের কাছ থেকে সমালোচনা শুনতে হচ্ছে শান্তর দলকে। অনেকে এ-ও বলছেন, বড় দলগুলোর বিপক্ষে যেখানে সফলতার পরিচয় দিচ্ছে, সেখানে অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষের সঙ্গে পেরে উঠছে না টাইগাররা। আর এটা শুধু চলতি বছরের হিসাব নয়, গত বছরও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ হারের অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের।
আফগান সিরিজের হতাশা ভুলে সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মিশন। ঘরের মাঠে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ক্যারিবীয়দের আমন্ত্রণ জানাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুরে প্রথম টেস্ট এবং ৫ নভেম্বর সিলেটের অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। আফগানিস্তান সিরিজ ক্যাবিরীয়দের বিপক্ষে দলের আত্মবিশ্বাসে জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে বলে মঙ্গলবার ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানান শান্ত।
একই সঙ্গে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভালো খেলেও কেন জয় পেল না দল সেসব নিয়েও কথা বলেন টাইগারদের টেস্ট অধিনায়ক, ‘আমি মনে করি আমরা আমাদের সেরাটা দিয়েছি কিন্তু সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। এই ধরনের কন্ডিশনে হয়তো এই বিষয়গুলোই ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) আমাদের দশ উইকেট নেওয়া উচিত ছিল। ছোট ভুলের কারণেই শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র হয়েছে বলে আমি মনে করি। এটি অবশ্যই একটি হতাশার ফল, তবে আমরা পাঁচ দিনই ভালো ক্রিকেট খেলেছি। আমাদের বোলাররা বিশেষ করে আজকের এই কন্ডিশনে অনেক পরিশ্রম করেছে। আমি মনে করি আমাদের বোলারদের কৃতিত্ব দিতে হবে। আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।’
বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচের শেষ দিকে নিষ্প্রাণ উইকেটে কীভাবে উইকেট শিকার করা যায়, বোলারদের তা নিয়ে আরও ভাবতে হবে, ‘আমার বিশ্বাস অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে আমাদের এই কন্ডিশনে খেলা প্রয়োজন ছিল। এই অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একটি অভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ রয়েছে, যারা প্রত্যেকেই জানে তাদের কাছে দলের প্রত্যাশা কী। আমরা সবাই বেশ ডিসিপ্লিনড ছিলাম। বোলাররা দীর্ঘ সময় ধরে সঠিক জায়গায় বল করেছে। আমার মনে হয় বোলাররা হয়তো বুঝে নিতে পারবে এই ধরনের কন্ডিশনে আর কীভাবে বোলিং করা উচিত।’
ম্যাচসেরা লিটন দাসের পারফরম্যান্সের প্রশংসাও করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। লিটন টেস্ট ইতিহাসে প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে এক ম্যাচে সেঞ্চুরি, ফিফটি এবং নয়টি ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েন। এ প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, ‘বিশেষ করে এই গরমে যেভাবে সে কিপিং করেছে এবং দুটি ইনিংস খেলেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। কোনো খেলোয়াড় পরপর দুই-তিনটি খারাপ ইনিংসের পর যেভাবে কামব্যাক করেছে, তা আমাদের দলের জন্য একটি দারুণ ইতিবাচক দিক।’
আফগানিস্তানের লড়াই, বিশেষ করে সেদিকউল্লাহ অতালের সেঞ্চুরিরও প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শান্ত বলেন, ‘তারা দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। আমাদের তাদেরও কৃতিত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে সেদিকউল্লাহ যেভাবে ব্যাট করেছে তা সত্যিই বেশ চিত্তাকর্ষক ছিল।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা কখনোই ভাবিনি যে ম্যাচটি চতুর্থ দিনে শেষ হয়ে যাবে। চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে উইকেট ভালো ছিল। স্পিনারদের জন্য কিছুটা সহায়তা ছিল, তবে এটি পাঁচ দিনই ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো উইকেট ছিল। আমাদের মানসম্মত বোলিং আক্রমণের সামনে তারা যেভাবে ব্যাট করেছে, তার জন্য তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা