চাহিদার চেয়ে বেশি আমদানি, তবু কেন গ্যাসের সংকট?

সম্পাদকীয়

মতামত

নাগরিক জীবনে সমস্যার অন্ত নেই। অন্তহীন নাগরিক সমস্যাগুলোর একটি হচ্ছে রান্নার গ্যাস। এটা এখন সাধারণ মানুষের বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে

2026-10-16T04:52:04+00:00
2026-10-16T04:52:04+00:00
 
  শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬,
৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
মতামত
এলপিজির বাজারে নৈরাজ্য
চাহিদার চেয়ে বেশি আমদানি, তবু কেন গ্যাসের সংকট?
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫২ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
নাগরিক জীবনে সমস্যার অন্ত নেই। অন্তহীন নাগরিক সমস্যাগুলোর একটি হচ্ছে রান্নার গ্যাস। এটা এখন সাধারণ মানুষের বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। বাজারে সেই দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। 

প্রতি সিলিন্ডারে ভোক্তাকে নির্ধারিত দামের চেয়ে সাড়ে তিনশ থেকে সাড়ে সাতশ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্যাসের সরবরাহসংকট। টাকা দিয়েও অনেকে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। রান্না-খাওয়াই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমন নয় যে, সরবরাহের ঘাটতির কারণে দেশে এলপিজির সংকট দেখা দিয়েছে। সংকটের পেছনে বাজার কারসাজি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। দৈনিক সময়ের আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, দেশে প্রতি মাসে এলপিজির যা চাহিদা কোনো কোনো মাসে তার চেয়ে বেশি আমদানি হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যেও সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য আমদানির চিত্র পাওয়া গেছে। তা সত্ত্বেও গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যায়। যে কারণে প্রশ্ন উঠেছে, আমদানি করা গ্যাস গেল কোথায়?

সরকারের দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যোগসাজশে এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, আমদানি করা গ্যাস বাজারে না ছেড়ে মজুদ করে রাখা হয়েছে। এলপিজিবাহী কয়েকটি জাহাজ বন্দরে না এনে সাগরে ভাসিয়ে রাখার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি করার জন্যই এমন কৌশল নেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।


অনেক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেলেও নিয়মিত এলপিজি আমদানি করে গোটাছয়েক কোম্পানি। বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। প্রভাবশালী এসব প্রতিষ্ঠান কোনো কারণে যোগসাজশ করলে ভোক্তাকে তার মূল্য দিতে হয়। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্ধারিত দাম কার্যকর করার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। জানা গেছে, এ মাসেই বিইআরসি দাম নিয়ে গণশুনানি করবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়তে পারে। তবে দাম বাড়ানোর আগে আমদানি খরচ, পরিবহন খরচ ও অন্যান্য খরচের স্বচ্ছ হিসাব কষা জরুরি। আমদানিকারকদের প্রকৃত খরচ নিয়মিত নিরীক্ষার আওতায় আনা প্রয়োজন।

সরকারকে নিয়মিত এলপিজি আমদানি ও মজুদের হিসাব নিতে হবে। গ্যাস আমদানি করা জাহাজের অবস্থান ও বাজারে সরবরাহের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। এলপি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যে অভিযোগ উঠেছে তা আমলে নিতে হবে। দ্রুত অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে সারা দেশে তদারকি জোরদার করা দরকার। পাশাপাশি এলপিজির বাজারে নতুন আমদানিকারকদের প্রবেশ সহজ করতে হবে।

এলপিজি এখন দেশের লাখো পরিবারের রান্নার প্রধান জ্বালানি। এই পণ্যের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়া মানে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি চাপ পড়া। তাই সরকারকে শুধু এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করলেই চলবে না, মাঠে সেই দাম কার্যকর করার দায়িত্বও নিতে হবে। ব্যবসায়ীরা অবশ্যই মুনাফা করবেন। তবে ভোক্তাকে জিম্মি করে বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিমুনাফার সুযোগ কাউকে কোনোভাবেই দেওয়া যায় না। ভোক্তা সাধারণ যেন ন্যায্য দামে প্রয়োজনীয় গ্যাস পান সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   চাহিদা  আমদানি  গ্যাস  সংকট  এলপিজি 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: