ডেঙ্গুর পর চুল ঝরছে বেশি? জেনে নিন সমাধান

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর অনেকের চুল পড়ার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। তবে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে

2026-10-17T13:07:29+00:00
2026-10-17T13:10:22+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ফিচার
ডেঙ্গুর পর চুল ঝরছে বেশি? জেনে নিন সমাধান
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৭ পিএম  আপডেট: ১৭.১০.২০২৬ ১:১০ পিএম
ডেঙ্গুর পর অনেকেরই অস্বাভাবিকভাবে চুল ঝরতে পারে। ছবি : সংগৃহীত
ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর অনেকের চুল পড়ার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। তবে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের চুল পড়া সাময়িক। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর সংক্রমণ, উচ্চ জ্বর, শারীরিক দুর্বলতা ও পুষ্টির ঘাটতির কারণে ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ নামের একটি অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। এতে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্র ব্যাহত হয় এবং অতিরিক্ত চুল ঝরে পড়ে। এক্ষেত্রে চুলের যত্নে কী করা উচিত- জেনে নেওয়া যাক।

চুলের বৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক চক্রের মধ্য দিয়ে চলে। এই চক্রে চুলের বৃদ্ধি, বিশ্রাম ও ঝরে পড়ার পর্যায় রয়েছে। ডেঙ্গুর মতো সংক্রমণ, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, ক্ষুধামন্দা, পানিশূন্যতা, মানসিক চাপ কিংবা দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার কারণে চুলের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হতে পারে। এ সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যায়। পরে সেগুলো একসঙ্গে ঝরে পড়তে শুরু করে। এ কারণেই অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার পর চুল পড়ার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে।

এ ধরনের চুল পড়া সাধারণত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় না। বরং অসুস্থতার প্রায় দুই থেকে চার মাস পর বিষয়টি বেশি চোখে পড়ে। ফলে, অনেকে চুল পড়ার সঙ্গে আগের অসুস্থতার সম্পর্ক বুঝতে পারেন না।


ডেঙ্গুর পর চুল পড়া শুরু হলে অনেকেই স্থায়ীভাবে চুল হারানোর আশঙ্কা করেন। তবে, টেলোজেন এফ্লুভিয়ামের ক্ষেত্রে সাধারণত চুলের গোড়া স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। মাথার নির্দিষ্ট কোনো অংশে টাক পড়ার পরিবর্তে পুরো মাথাজুড়ে চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে।

শরীর সুস্থ হয়ে উঠলে এবং চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্র ফিরে এলে নতুন চুল গজাতে শুরু করে। তবে, চুল ধীরে বাড়ে বলে আগের ঘনত্ব ফিরে পেতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

সব ধরনের চুল পড়ার কারণ অবশ্য ডেঙ্গু নয়। শরীরে আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাব, দ্রুত ওজন কমানো, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা বংশগত কারণেও চুল পড়তে পারে। চুল অতিরিক্ত ঝরলে, দীর্ঘদিন ধরে পড়তে থাকলে অথবা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডেঙ্গুর পর চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় কী খাবেন?

চুলের প্রধান উপাদান কেরাটিন, যা এক ধরনের প্রোটিন। তাই ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার সময় পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। খাদ্যতালিকায় ডাল, ছোলা, শিম, সয়াবিন, টোফু, দুধ, দই, পনির, ডিম, মাছ ও চর্বিহীন মাংস রাখা যেতে পারে।

চুলের স্বাস্থ্যে আয়রনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মসুর ডাল, শিম, সবুজ শাকসবজি ও তিলের মতো খাবার থেকে আয়রন পাওয়া যায়। এসব খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খেলে উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে আয়রন শোষণে সহায়তা পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে পেয়ারা, আমলকী, লেবু, টমেটো ও ক্যাপসিকাম খেতে পারেন।


তবে কোনো একটি খাবার খেলেই দ্রুত চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার আয়রন, বায়োটিন, জিঙ্ক কিংবা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। শরীরে এসব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি আছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট নিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্টের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং কিছু সাপ্লিমেন্ট নির্দিষ্ট চিকিৎসা পরীক্ষার ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ডেঙ্গুর পর চুলের যত্নে যা করবেন

স্বাভাবিকভাবে চুল ধুতে থাকুন
চুলে শ্যাম্পু ব্যবহারের কারণে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম হয় না। ধোয়ার সময় আগে থেকেই ঝরে পড়ার পর্যায়ে থাকা চুলগুলো বেরিয়ে আসতে পারে। তাই চুল পড়ার ভয়ে নিয়মিত চুল ধোয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই।

চুলের সঙ্গে কোমল আচরণ করুন
ভেজা চুল সহজে ভেঙে যেতে পারে। তাই চুল আঁচড়ানোর সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন। শক্ত করে চুল বাঁধা, অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ, ঘন ঘন রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট এবং তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষা এড়িয়ে চলুন।

ক্র্যাশ ডায়েটিং এড়িয়ে চলুন
অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার সময় শরীরের পর্যাপ্ত শক্তি ও পুষ্টি প্রয়োজন। দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা বা অতিরিক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ চুল পড়ার সমস্যা বাড়াতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন
ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার পর শরীরকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় দিন। পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম ও সুষম খাদ্যাভ্যাস সামগ্রিক সুস্থতায় সহায়তা করে। তবে, এগুলো চুলের বৃদ্ধি চক্রকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাভাবিক করে দেয় না।

ডেঙ্গুর পর চুল পড়া সাধারণত সাময়িক হলেও দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল ঝরতে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। মাথার নির্দিষ্ট অংশে টাক পড়া, মাথার ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক রক্তে আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা বা চুল পড়ার অন্য কারণগুলো পরীক্ষা করতে পারেন।

মনে রাখবেন, ডেঙ্গুর পর চুল পড়া মানেই স্থায়ীভাবে চুল হারানো নয়। সঠিক পুষ্টি, কোমল চুলের যত্ন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শের মাধ্যমে এ সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।

সময়ের আলো/মহু

  বিষয়:   ডেঙ্গু  চুল ঝরা  সমাধান  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: